Friday, 24 April 2026

ঠাকুরপুকুর রাজাসাজার নাট্য সংস্থার প্রচেষ্টায় "নাট্য বিদ্যালয়"



রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, ঠাকুরপুকুর : রাজাসাজা নাট্যসংস্থা ১৯৯৩ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর স্থাপিত হয় এবং শীলপাড়া যুবক সংঘ ক্লাবের স্থায়ী মহলা কক্ষে নিয়মিত চর্চার কাজ চলে।২০২০ এর পর করোনা কালের ঠিক পর পর তাদের নতুন শাখা সংগঠনের উদ্বোধন হয় বিদ্যানগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় “বিদ্যানগর রাজাসাজা”। এই নতুন শাখার জন্ম লগ্ন থেকেই ৫ থেকে ১৫ বছরের বেশ কিছু তরতাজা ছেলে মেয়েদের নিয়ে চলে তাদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন নাটকের কাজ । কিন্তু কোথাও নির্দিষ্ট কোন রিহার্সালের বা চর্চার জায়গা না থাকায় নানান অসুবিধা সৃষ্টি হয় এবং আরো অনেক যুবক-যুবতী থিয়েটারে আগ্রহ প্রকাশ করে কিন্তু নির্দিষ্ট কোন ঠিকানা নেই বলে সেভাবে তারা ভরসা পায় না কাজ করার। তাও এখন বিদ্যানগর রাজাসাজায় ৩০ জন ছেলেমেয়ে কাজ করছে। সেখান থেকেই তাদের ভাবনা আসে নির্দিষ্ট একটা ঠিকানার জন্য এবং সঠিক চর্চা করার জন্য সঠিক জায়গা প্রয়োজন। ভাবনা আসে নাট্যবিদ্যালয় তৈরি করার। সেই অর্থে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনো নাট্য বিদ্যালয় নেই, যেখানে নিয়মিত থিয়েটারের পড়াশোনা করানো হয়, বা প্রতিদিন থিয়েটারে চর্চা করা হয়। এই চিন্তাভাবনা থেকেই ও প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েকে আরো যোগ্য করে তোলার জন্য কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার থিয়েটারের প্রশিক্ষক এনে তাদের শিক্ষিত করা হবে এবং তারপরই পাশাপাশি প্রযোজনার কাজ করা হবে। প্রথমে দলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটা ২০/২০ টিনের দর্মা ঘেরা ঘরের কথা ভাবেন তারা। বিদ্যানগরের পাশে চন্দনদহ গ্রামে একজন শুভানুধ্যায়ী শ্রী কার্তিক চন্দ্র হাজরা নাট্য সংস্থার পরিচালক শ্রী গৌরাঙ্গ হাজরার পিতা দু কাঠা জমি দান করেন দলকে। জমি পাওয়ার পর তারা ভাবেন যে আরেকটু বড় করে যদি আরো বেশি জনকে নিয়ে ক্লাস করানো যায়, যদি একটু কংক্রিটের করা যায়, সেটা কিভাবে সম্ভব ? তাই গত ১৯ এ মে ২০২৪ সালে বিদ্যানগর জেলা গ্রন্থাগার এ এলাকার সংস্কৃতি ও নাট্যপ্রেমী এবং রাজাসাজার শুভানুধ্যায়ী ও নাট্যকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে একটি কংক্রিটের নাট্য বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। যেহেতু কংক্রিটের ভাবনা ভাবা হয় সেখানে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন যেটা তাদের নেই যা হয় প্রতিটা নাট্য দলের। খরচ কমানোর জন্য ছেলেমেয়েরা নিজেরাই উৎসাহ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে “তারা নিজেরা জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে , রাজমিস্ত্রির কাজ করবেন তাদের হাতে হাতে কাজ করে সহযোগিতা করবে যাতে খরচ কম হয় “ এবং কথামতো ছেলে মেয়ে সহ তাদের অভিভাবকরাও এই কাজে হাত লাগায় । এই নির্মাণটি সম্পন্ন হবে সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতায়, কোন রাজনৈতিক বা সরকারি কোন অনুদানে নয়। এখনো পর্যন্ত প্রচুর মানুষ এগিয়ে এসেছেন, প্রত্যেকটা অভিভাবক এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ছেলেমেয়েদের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এই কাজটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সবাই ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করবেন।  মানুষের কাছে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আবেদন রাখছে রাজাসাজা নাট্যদল, স্বেচ্ছায় এক টাকা হলেও থিয়েটারের স্বার্থে, বাংলা সংস্কৃতির স্বার্থে যাতে সকলে দান করে। এই নির্মাণ কাজটি  ২৩ শে মে ২০২৪ ভূমি পূজার পর থেকেই কাজ শুরু হয়। এখনো পর্যন্ত প্রায় সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার কাজ হয়ে গেছে তাদের এবং বাকি এখনো চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার কাজ।  আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজাসাজার শুভ জন্মদিনে নাট্য বিদ্যালয়টি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকার প্রত্যেকটা মানুষ সহযোগিতা করছেন প্রত্যেকেই রাজাসাজা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।  গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুদান আসছে সবাইকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন।আর্থিক সহযোগিতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সহ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে ঠাকুরপুকুর রাজাসাজা  আবেদন রেখেছে স্বেচ্ছায় আর্থিক সহযোগিতার। এ ছাড়াও আমরা আর্থিক যোগানের জন্য সংস্থার পরিচালক গৌরাঙ্গ হাজরা সহ অন্যান্য নাট্যকর্মীরা রাস্তার ধারে ফুটপাতে গাছ বিক্রি করছেন, গাছ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং এর  আর্থিক সঞ্চয় নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে বলে তারা আশা রাখছেন। পরিচালক গৌরাঙ্গ হাজরার বলেন - "প্রয়োজনে ভিক্ষা করব, ফুটপাতে গামছা পেতে বসব। লোকের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষে করতে যাব, পথনাটক করে বিদ্যালয়ের জন্য ভিক্ষে চাইবো। নাট্যবিদ্যালয় আমরা গড়বই যত বাধা বিপত্তি আসুক।"


দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...