Monday, 27 July 2026

বাংলা নাট্য সমাজের প্রযোজনা, 'অভিমানে চলে যেও না'

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা , দমদম : ২৪ শে জুলাই ২৬, শুক্রবার দমদম নাগেরবাজারের The Apex প্রেক্ষাগৃহে বাংলা নাট্য সমাজ তাদের নতুন প্রযোজনা 'অভিমানে চলে যেও না' সফলভাবে মঞ্চস্থ করল। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সাগ্নিক মৈত্র।

বর্তমান সময়ে যেখানে অধিকাংশ নাট্যদল অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের নিয়েই প্রযোজনা গড়ে তুলতে আগ্রহী, সেখানে বাংলা নাট্য সমাজ এক ভিন্ন ভাবনার পরিচয় দিয়েছে। একঝাঁক একেবারে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের, যাদের অনেকেরই এটি ছিল প্রথম মঞ্চাভিনয়, তাদের নিয়েই এই প্রযোজনা নির্মাণ করা হয়।

নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নাটকটি সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়। অভিনয়ের আন্তরিকতা, দলগত সমন্বয় এবং মঞ্চ উপস্থাপনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী নতুন শিল্পীদের প্রচেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নাট্যদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলা নাট্য সমাজ বরাবরই নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। সেই ভাবনা থেকেই অভিজ্ঞ শিল্পীদের পাশাপাশি নবাগতদের হাতে মঞ্চের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন শিল্পীদের অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বিচার করার চেয়ে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং প্রথম মঞ্চেই নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার মানসিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন দর্শক ও নাট্যপ্রেমীরা। প্রথম প্রযোজনাতেই তাঁদের এই আত্মবিশ্বাস আগামী দিনে আরও পরিণত অভিনয়ের ইঙ্গিত বহন করছে বলেই মনে করছেন উপস্থিত নাট্যপ্রেমীরা।

খাটুরা শিল্পাঞ্জলির পুতুল নাট্যকলার কর্মশালা

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, কল্যাণী : গত ২৪ জুলাই ২০২৬ জহর নবোদয় বিদ্যালয়, কল্যাণী, নদীয়া র আমন্ত্রণে গোবরডাঙ্গার পুতুল নাট্য সংস্থা খাটুরা শিল্পাঞ্জলি আয়োজন করেছিল পুতুল নাট্যকলার কর্মশালা। জহর নবোদয় বিদ্যালয় এর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ৮০ জন ছাত্রছাত্রীদের ঐতিহ্যবাহী সুতো পুতুল ও বেনি পুতুল তথা গ্লাভস পাপেট তৈরীর প্রশিক্ষণ দিল শিল্পাঞ্জলি সংস্থার পুতুল নাট্যকলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একই সাথে নির্মিত হল কর্মশালা ভিত্তিক বেনী পুতুল প্রযোজনা ' বন্দেমাতরম ' । এই দিন সকাল দশটায়  জহর নবোদয় বিদ্যালয় এর অধ্যক্ষ কাজল কুমার রূদ্র ,  শিক্ষক শুভেন্দু ঘোষাল , জে, এন পন্ডিত ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা এবং  গুণীজনের উপস্থিতিতে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর  সাথে পরিচয় পর্বের পর  শিল্পাঞ্জলির পুতুল নাট্যকলার শিক্ষিকা সোমা মজুমদার তার স্বাগত ভাষণে পুতুল নাট্যকলার কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য বর্ণনা করেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের পুতুল নাট্যকলা সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের পুতুল নাট্যকলা শিক্ষার ইতিবাচক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা ও করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যদি পুতুল নাট্যকলাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেন সে বিষয়ে ও তাদের আগ্রহী করে তোলেন তিনি । এরপর শিল্পাঞ্জলির অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় সোমা মজুমদারের তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীদের বেনী পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরীর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। ৮০ জন ছাত্রছাত্রী খুব সহজেই সাধারণ জিনিস ব্যবহার করে কিভাবে বেনি পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরি করা সম্ভব তার শিক্ষা গ্রহণ করে এবং প্রত্যেকে একটি করে বেনী পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরি করে। এক সাথে ছাত্র ছাত্রীদের প্রয়োজনার বাচিক ও সঙ্গীতের তালিম ও দেওয়া হয় এবং বেনি পুতুল প্রযোজনা 'বন্দেমাচরম' নির্মিত হয়।বন্দেমাতরম সঙ্গীতের দেড়শো বছর উপলক্ষে  ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পুতুল নাট্যের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি 'বন্দেমাতরম '। বেশ কয়েকবার অনুশীলনের পরেই ছাত্র-ছাত্রীরা বেনী  পুতুলের সঞ্চালনা রপ্ত করে ফেলে। সকল ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীরা পরিবেশন করেন বেনী পুতুল প্রযোজনা বন্দেমাতরম। প্রযোজনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পাঞ্জলির শিল্পী কনিকা দাস, দীপালি বিশ্বাস ও সঙ্গতে ছিলেন মুকুল দাস।শিল্পাঞ্জলির শিল্পীরা এরপর একে একে মঞ্চস্থ করে পুতুল নাটক চার্লি,বেনী পুতুল নাচ ও ঐতিহ্যবাহী সুতোপুতুল নাচ এবং বিভিন্ন ধরনের সমকালীন পুতুল নাটকের প্রদর্শন করেন ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। 

ভারতবর্ষের নিজস্ব সংস্কৃতি পুতুল নাট্যকলার এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান দেখে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা খুবই আনন্দিত হয় এবং এই শিল্পকলা সম্পর্কে  আগ্রহ প্রকাশ করে। শিল্পাঞ্জলি র পুতুল নাট্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভবিষ্যতে তাদের পুতুল নাট্যের বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করবার প্রতিশ্রুতি দেন । বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের পুতুল নাট্যের প্রতি উৎসাহ এবং আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

Wednesday, 15 July 2026

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের স্মৃতিতে খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার নাট্য উৎসব

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, খড়দহ : প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত নাট্য উৎসবের তিন দিনব্যাপী  প্রথম পর্ব অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে সম্পন্ন হলো। গত ২৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত পানিহাটি লোকসংস্কৃতি ভবনে এই উৎসবের আসর বসে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে।উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মুরারি মুখোপাধ্যায় । মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই আহিরির অন্যতম সদস্য নৃত্যশিল্পী সুদর্শনা রায় ঘটকের পরিচালনায় "আবর্তন" এর শিশু শিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা দর্শকমনে আলাদা ছাপ ফেলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আবর্তন নৃত্য গোষ্ঠীর শিল্পীদের কত্থক নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা গোটা হলঘরে উৎসবের আবহ তৈরি করে। উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ড. অপূর্ব দে, নাট্য সমালোচক দুলাল চক্রবর্তী, মুখাভিনেতা বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, নাট্যকার মানবেন্দ্র মজুমদার এবং academia র কর্ণধার রাহুল দেবনাথ। প্রত্যেকেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাটকের সামাজিক গুরুত্ব, নাট্যচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—প্রয়াত চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের নাট্য জগতে অবদান বিষয়ক কর্মকাণ্ডর কথা। সেইসঙ্গে তাঁরা বার্তাও রাখেন যে নাটক শুধু বিনোদন নয়, সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার।

সমগ্র নাট্য উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন নাট্য দলের অনুনাটক ও একাঙ্ক নাটকের মেলবন্ধন।  উৎসবের গঠনশৈলী ছিল পরিকল্পিত পরিমার্জিত ও রুচিশীল। প্রথম দিন, ২৬ জুন গরলগাছা স্বপ্নসৃজন এর " দেবী "অনুনাটক, ইছাপুর অঙ্কুরের " আঁধি "একাঙ্ক নাটক ও অর্কিড উত্তরপাড়ার " দায় " নাটক মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমিতা দেবী। তাঁর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় গোটা অনুষ্ঠান প্রাণ পায়। দ্বিতীয় দিন, ২৭ জুন, এদিন দর্শকরা উপভোগ করেন বালী ভেনাস থিয়েটারের অনুনাটক " প্রশ্ন "এবং তিনটি একাঙ্ক নাটক শান্তিপুর উড়ানের " দিশাহীন " আতপুর জাগৃতির " গোলমাল " ও চাঁচল অপাঙ্ক্তেয়, মালদহর " চার অধ্যায় "। বিষয়বৈচিত্র্য ও অভিনয়শৈলীতে প্রতিটি নাটকই ছিল স্বতন্ত্র।তৃতীয় দিন, ২৮ জুন, উৎসবের শেষ দিনেও একই ধারা বজায় থাকে।  চারটি ভিন্ন ধারার একাঙ্ক একাঙ্ক নাটক যথাক্রমে মণ্ডলাই সার্বজনীন - পাণ্ডুয়া, হুগলীর " চরিত্রবান চোর ", কাল্পনিক হিন্দমোটরের " স্বপ্ননীড় ", ব্যান্ডেল চারনিকের " বিকর্ণ " এবং পানিহাটি অভিযাত্রীর " কী খবর বল " দর্শকদের আবদ্ধ করে রাখে। অনুভূতির বৈচিত্রে শেষ হয় নাট্য উৎসব।তিন দিন ধরে চলা এই নাট্য উৎসবে নাট্যপ্রেমী মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। প্রয়াত দুই নাট্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করে আয়োজিত এই উৎসব শুধু শ্রদ্ধাজ্ঞাপনই নয়, বরং আগামী দিনের নাট্যচর্চার পথকেও সুগম করল। খড়দহ আহি নাট্য সংস্থার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা দর্শক-শ্রোতাদের। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বার্ষিক কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসবের জন্যও এখন থেকেই উৎসাহিত নাট্যপ্রেমীরা।

আদর্শের দীপশিখায় আলোকিত শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী

  

রাজা দে , থিয়েটার মগজ পত্রিকা, গোবরডাঙ্গা : মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ইতিহাসচেতনা ও সাংস্কৃতিক আবেগে ভরপুর এক অনন্য পরিবেশে গত ৬ জুলাই গোবরডাঙ্গা পৌর টাউন হলে সংস্কার ভারতী, উত্তর ২৪ পরগনার উদ্যোগে মহাসমারোহে পালিত হলো ভারত কেশরী, প্রখ্যাত দেশনায়ক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী। কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই আয়োজন; বরং তাঁর জীবনাদর্শ, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবোধ এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রয়াসে পরিণত হয় সমগ্র অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভারতমাতার প্রতিকৃতি এবং ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। এরপর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে দীপমন্ত্র পাঠ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শুভ সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। শ্রদ্ধা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র প্রেক্ষাগৃহ। উপস্থিত সকলেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই মহান রাষ্ট্রনায়ককে, যিনি স্বাধীনতার পর জাতীয় স্বার্থ, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং বাংলার ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের বিভীষিকাময় সময়ে যদি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দৃঢ় নেতৃত্ব, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং অক্লান্ত সংগ্রাম না করতেন, তবে আজকের পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারত। বাংলার মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা ভারতীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই তিনি আজও বহু মানুষের হৃদয়ে 'বাংলার অতন্দ্র প্রহরী' হিসেবে সমাদৃত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন শিক্ষক, সমাজসেবী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সংঘচালক সুকুমার নাথ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রাজেন্দ্র মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ সিনহা, প্রতিরক্ষা প্রাক্তন সেনাসদস্য কল্যাণ সমিতির সভাপতি। তাঁদের বক্তব্যে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রদর্শন, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক বিশদভাবে আলোচিত হয়।

সংস্কার ভারতী পরিবারের পক্ষ থেকে পরিবেশিত হয় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে এক হৃদয়স্পর্শী গীতি-আলেখ্য। সুর, আবৃত্তি ও অভিনয়ের মেলবন্ধনে সেই পরিবেশনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে এবং মহান দেশনায়কের জীবনাদর্শকে শিল্পের ভাষায় নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ এনে দেয়। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক নাটক ‘অখণ্ড ভারতের অতন্দ্র প্রহরী’-র মঞ্চায়ন। নাট্যকার: সঞ্জয় আচার্য্য। ডিজাইন ও পরিচালনা: কেয়া ঘোষ ও জাহিদ সাহ। পরিবেশনা: ভাটপাড়া অরণ্যক থিয়েটার গ্রুপ এবং হালিসহর আদর্শ বিদ্যাপীঠ ড্রামা ক্লাব। নাটকটি কেবল একটি জীবনীনির্ভর প্রযোজনা নয়; এটি ছিল এক অগ্নিক্ষরা সময়ের ইতিহাস, সংগ্রাম এবং জাতীয় চেতনার শক্তিশালী নাট্যরূপ। মঞ্চের প্রতিটি দৃশ্য, সংলাপ, আলোক পরিকল্পনা এবং শিল্পীদের প্রাণবন্ত অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে দেশভাগের বিভীষিকাময় অধ্যায়। সাম্প্রদায়িক হিংসা, উদ্বাস্তু সংকট এবং বিশেষ করে পূর্ববঙ্গে অসংখ্য হিন্দু পরিবারের ওপর নেমে আসা নির্যাতন, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার বেদনাময় ইতিহাস নাটকের প্রতিটি মুহূর্তে গভীর আবেগের সঙ্গে ফুটে ওঠে। সেই সংকটময় সময়ে আক্রান্ত ও উদ্বাস্তু মানুষের অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে আপসহীন ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, নাটকটি তারই শিল্পসম্মত উপস্থাপনা। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা এই আদর্শকে সামনে রেখেই তিনি বাংলার স্বার্থরক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখার সংগ্রামে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নাটকের মাধ্যমে শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয়। দর্শকদের কাছে যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে কেন ইতিহাস তাঁকে বাংলার 'অতন্দ্র প্রহরী' বলে অভিহিত করেছে। নাটকের অন্তিম দৃশ্যে প্রতিধ্বনিত হয় এক গভীর সত্য আদর্শের মৃত্যু হয় না। আত্মত্যাগ কখনও ইতিহাসের ধূলায় হারিয়ে যায় না; তা যুগে যুগে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং জাতীয় কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘ করতালি যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই স্বীকৃতি হয়ে ধ্বনিত হয়। সমাপনী পর্বে উত্তর ২৪ পরগনা সংস্কার ভারতীর সভানেত্রী শাশ্বতী নাথ তাঁর বক্তব্যে মহান দেশনায়কের আদর্শকে সমাজ ও আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর দর্পণ সংগীত একাডেমী ও পরম্পরার শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে সমবেত ‘অখণ্ড বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমগ্র প্রেক্ষাগৃহ দেশাত্মবোধের আবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে। সেই গৌরবময় পরিবেশের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। ইতিহাসচেতনা, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং শিল্পসৃষ্টির অপূর্ব সমন্বয়ে এই আয়োজন শুধু একটি জন্মজয়ন্তী পালন নয়; বরং মহান দেশনায়ক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করার এক সার্থক সাংস্কৃতিক প্রয়াস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের আয়োজনে রবীন্দ্র নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন


রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : গত ৩০ শে মে শনিবার মানিক্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের আয়োজনে রবীন্দ্র নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন। ঠিক সাড়ে ছটায় দুই কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শুরু হল অনুষ্ঠান।  সংস্থার সম্পাদক রঞ্জিতা মুখার্জি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন এবং স্বাগত সম্ভাষণ জানালেন।  সকলের প্রিয়, প্রবীণ সদস্য উৎপল ঘোষ দুটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন, চুমকি সুলতা মুখার্জি একটি রবীন্দ্র সংগীত একটি নজরুল গীতি পরিবেশন করলেন।

সান্ত্বনা হাজরার কন্ঠে রবীন্দ্রকবিতা আবৃত্তির পর  দীপায়ন সাহা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতিতে সকলকে মুগ্ধ করলেন। এরপর শান্তা ঘোষ ও সুরজিৎ আচার্য মিত্রের পরিচালনায় ইকয়ারের শিল্পীরা সমাবেত কন্ঠে পাঁচটি সংগীত পরিবেশন করলেন। লোপামুদ্রা সরকারের আবৃত্তি ও রঞ্জিতা মুখার্জির সংগীত পরিবেশন উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প তোতাকাহিনী অসাধারণ মুন্সিয়ানায় পাঠ করেন বিবেকানন্দ ঘোষ। শান্তা নন্দীর অপূর্ব নৃত্য পরিবেশন এবং সুরজিৎ আচার্য মিত্র ও অজন্তা কুন্ডু পরিবেশিত একক সংগীত, অনুষ্ঠানকে উচ্চমাত্রা এনে দিয়েছিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাকলি রায় ও মধুমিতা মোদক। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মহুয়া চৌধুরীর রচনায় ধনঞ্জয় আঢ্যর নির্দেশনায় গানে কবিতায় অভিনয়ে একটি সুচারু আলেখ্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হল 'রবি মানসে নারী'। অংশ নিলেন উৎপল ঘোষ, শিবশঙ্কর দাস, কাশীনাথ কোলে, সোমা লস্কর, মিতালী দাস, সংঘমিত্রা ব্যানার্জি গোপা গাঙ্গুলী ও মানসী ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের উচ্চ প্রশংসা লাভ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ভাবনা ও নির্মাণে ছিলেন ধনঞ্জয় আঢ্য ও সঞ্চালনায় মধুমিতা মোদক।



দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...