Thursday, 30 April 2026

দমদম ঐচ্ছিক নাট্যদলের ৫ম অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব 'নাট্যপার্বনী'

 

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, কলকাতা :  গুটি গুটি পায়ে চার পেরিয়ে এবার পাঁচে। দমদম ঐচ্ছিক নাট্যদলের ৫ম অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব 'নাট্যপার্বনী' ২৫শে এবং ২৬ শে এপ্রিল দুদিন ধরে অনুষ্ঠিত হলো তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিগণ বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক এবং অভিনেতা শ্রী তীর্থঙ্কর চন্দ তারই সাথে উপস্থিত ছিলেন দৃষ্টিহীনদের নাটকের দল শ্যামবাজার-অন্যদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দেশক শ্রী শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নির্দেশক এবং অভিনেতা, থিয়েলাইট শ্রী অতনু সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এক মনোগ্রাহী আলোচনার বিষয় 'নাট্যচর্চার অন্য দিগন্ত'এই বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন শ্রী তীর্থঙ্কর চন্দ মহাশয় শ্রী শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় শ্রী অতনু সরকার মহাশয়। তারপরেই  দমদম ঐচ্ছিক নাট্যদলের সবচেয়ে ছোট্ট সদস্যা ঐশানী রায়ের কবিতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় এবছরের অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসবের পথে চলা। 

মঞ্চস্থ হয়েছে দমদম ঐচ্ছিক প্রযোজিত নাটক মহাশ্বেতা দেবীর 'বান' যার নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ্ত ভূঁইয়া এবং একক অভিনয়ে ছিলেন স্বাতী চক্রবর্তী। তারই সাথে মঞ্চস্থ হয়েছে  দমদম ঐচ্ছিক এর নতুন প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে নাটক 'বিচারক' নির্দেশনায় সুরিজিৎ দেবনাথ  এবং নাট্যরূপ শ্রীমতি রঞ্জনা ভঞ্জ। অভিনয় এ সুরজিৎ দেবনাথ এবং মধুরা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ছিল কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কর্ণ কুন্তী সংবাদ'। কন্ঠাভিনয় ছিলেন কিংশুক চক্রবর্তী এবং স্বাতী চক্রবর্তী, নির্দেশনায় কিংশুক চক্রবর্তী  এছাড়া যে সব নাট্যদল তাদের নাটক নিয়ে হাজির হয়েছিল উৎসবে। তাদের মধ্যে ছিল আবহমান হালিশহর প্রযোজিত নাটক  'দজ্জাল গিন্নি'। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা প্রযোজিত নাটক 'আমার আমি', বেহালা থার্ড  বেল প্রযোজিত নাটক  'A cry of blood'। 

এই গরমের তীব্রতাই হোক কিংবা ঝড় বৃষ্টি যাই হোক  না কেন নাট্য প্রেমীদের নাটক দেখা থেকে আটকানো অসম্ভব। সেটা প্রমাণ হয়েছে  দমদম ঐচ্ছিক নাট্যদলের এই অনু নাটক উৎসবে আসা দর্শকদের উৎসাহ দেখে। পরপর দুই দিনই আশাতিত দর্শক চোখে পড়ার মতো। 



Wednesday, 29 April 2026

পুঁথিগত নহে, হৃদগত জীবনের পাঠ চাকদহ নাট্যজনের 'একটা ইস্কুল'

 

অনির্বাণ ঘোষ, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : জলেবাসা, একটি গাঁয়ের নাম। গাঁয়ের নায়ক মহেন্দ্র। ব্যবসায়ী বাপের অপোগন্ড ছেলে। স্কুলে পড়ে বটে, তবে ফেলু দি গ্রেট। কিন্তু হৃদয়ে প্রেম ষোলোআনা - পাড়ার চড়াইকে একখানা প্রেমপত্র দেয়, দোষের বলতে তাতে গণ্ডাখানেক বানান ভুল। ব্যাস, হিতে বিপরীত - ভাগ্যের চড়াই-উতরাই! মহেন্দ্রর হলমার্ক ভালোবাসার চিঠি পৌঁছলো রাগী বাপের হাতে। পুরস্কার স্বরূপ বেদম উত্তম-মধ্যম! মনের দুঃখে চাঁদঢাকা বাঁশবাগানে বেসুরো গানই তার একমাত্র দুঃখবিলাস। এমন সময় দেবদূতের মতো হাজির 'গাদা'; যার বাহুল্যে বালাই নেই - আছে বলতে এক চিলতে কুঠুরি, কুঠুরিতে ঠাকুমা, সাথে কয়েকটা ছাগলছানা। সাঁঝবাগানের নিস্তব্ধতা ভেঙে জোনাকির আলোর মতো বন্ধুতা হল মহেন্দ্র-অভীক ধর, গাদা-অমিত সাহায়। ফুরফুরে জলেবাসায় রূপকথার মতো মঞ্চে হেঁটে চলে চড়াই, বিল্লি, বগা, ভ্যালাদা-রা। ঘটনার ঘনঘটায় মহেন্দ্র এসে পৌঁছয় গাদার ঘরে। গাদার ঠাম্মা, অদিতি লাহিড়ী তাকে আদরে খেতে দেয়, আর কৌতূহলী মহেন্দ্র হয়ে ওঠে প্রশ্নবিচিত্রা। মহেন্দ্রর প্রশ্নের শেষ নেই অথচ ঠাম্মা তার অজানা গল্পে একের পর এক উত্তর দিয়ে চলে। মাথামোটা মহেন্দ্র প্রথমটায় সেসব ঠাহর করতে না পারলেও ধীরে ধীরে, কালক্রমে তার বোধ তৈরি হতে শুরু করে; যেখানে গাদার সংলাপ সার্থক - 'শিখনের কোনো স্থান-কাল-পাত্র হয় নাকি!' একটা সময় পর গাদা-ঠাম্মার কুঠুরিতে মহেন্দ্রও অংশ হয়ে ওঠে। রোজনামচার মধ্যেই যাপনের গভীর পাঠ নিতে থাকে দু'জন। 

এমন সব পেয়েছির আসরে দুধেচোনা সংকট আসবে না, তাই হয়? তবেই তো নাট্যিক চপেটাঘাত! ন্যায় অন্যায়ের হিসেব গুলিয়ে যায়। গাদার মায়ের মৃত্যুশোকে আত্মঘাতী হয় গাদার বাপ, কলম্বাস পাল - শুভদীপ মন্ডল। কুহক-কৌশলে মহেন্দ্রর বাবা মণিশংকর তথা দেবাশীষ দে-কে হত্যা করে গাদার ঠাকুমা। সাবলীল, হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি বারেবারেই স্মৃতির সদরে কড়া নাড়ে। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে মঞ্চে এসেছে সলমন খান ও পুলিশ অফিসার, অভিষেক দে। প্রশ্নোত্তরের তর্জায় রিলিফ তৈরি করতে ভোলেননি নাটককার। আর চমকপ্রদ জ্যান্ত বিলকিস্, এহেন মানবিক নাট্যে অমানব কুশীলবটির জুড়ি মেলা ভার। মোরগ বলে চরিত্র নয় ! আসলে ভাবনার কোনো সিলেবাস্ নেই। রবীন্দ্রনাথ যেমন প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধে পাঠভবন গড়েছেন - 'বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে'; এক্ষেত্রে বিদ্যালয় যে কেবলই শিক্ষার জাঁতাকল নয়, যেখানে শুধু প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচার হবে, এ কথাই দেবাশীষ গড়েছেন একটা ইস্কুলে। জলেবাসা নিতান্তই উত্তর ত্রিপুরার পটভূমি, তবু একথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে এ গল্প বাংলার। নিত্যদিন একটার পর একটা স্কুল বন্ধ। শিক্ষক-শিক্ষিকারা মাসোহারা পান মিড-ডে-মিল সামলে। কারণে অকারণে ছুটি ঘোষণা, স্কুল-ছুট নামান্তরে চেতনার হনন দেবাশীষের ইস্কুল। জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। পিরিতির পাঠশালায় তরঙ্গায়িত মহেন্দ্রর শিক্ষকই যেন গাদা। যে পাঠশালায় কেউ কখনো ফেল করে না। সহজ-সত্যের মেলবন্ধনে জলেবাসা হয় ভালোবাসা। 

অভিনব দৃশ্যবিন্যাসে পেঁজালো তুলোর মেঘে ঢাকা আকাশ যেভাবে ভার্টিক্যালে দৃষ্টিনন্দিত, সেভাবেই অদ্রিশ রায়ের নাট্যসামগ্রীসহ হরাইজোন্টাল লৌকিক নিবেদন দর্শকের গায়ে কাঁটা দেয়, নিজের হয়ে ওঠে। মানুষ গড়ার কারিগর ঠাকুমা হয়ে ওঠে জীবন্ত বিবেক, যে প্রতিনিয়ত পরোক্ষ চাবুক মারে আজকালকার বেসরকারী ইংরেজীমাধ্যম বিদ্যালয়ের কর্পোরেট শিক্ষাব্যবস্থাকে। দোতারার সুর, সৌভিক বিশ্বাসের বাদ্য, লোকায়ত গানে জন্ম নেয় শৈশবের মিঠাস, অভীক চক্রবর্তীর আবহ প্রক্ষেপণ আর ডানা রায়ের বিভঙ্গে রচিত হয় বেঁচে থাকার পালা - 'না জেনে ভেদ বাতেন / হারাম তোমরা বলো কেন? / এ গান শুনছেন নবী ইয়াসিন।' 

পরিশেষে এটুকুই বলি, 'সকলের তরে সকলে আমরা'র নতুন পাঠ্যক্রম রচনা করেছেন 'চাকদহ নাট্যজন'। প্রত্যেক অভিনেতার কন্ঠ প্রয়োগ নিপুণ, সুস্পষ্ট। সুমন পালের তত্ত্বাবধানে যেভাবে সৌমেন ভট্টাচার্য, উজান গাঙ্গুলি, অক্ষয় নারায়ণ ঝাঁ, পৌলমী ঘোষ, সন্দীপা চ্যাটার্জী ও আদৃতা পাল ঘাম ঝরিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবী রাখে। নাটক শুরুর সময় দর্শকের উদ্দেশ্যে চলভাষ নীরব রাখার আর্জি যেমন পালের গোদা সুমন ভাষ্যে বিকল্পের সন্ধান দেয়, পাশাপাশি জঙ্গল-নদী-বাস্তবতার মুহুর্মুহু চোখ তৈরি করে এ নাট্য; স্বপ্নবুননের আকাশে আলোক-সম্পাত আনে চোখের আরাম। জীবনের পাঠ বিকিরণে মঞ্চ থেকে মন চেয়ে দৃষ্টিপাত করুক 'একটা ইস্কুল', খোঁজ চলুক অহরহ।

Friday, 24 April 2026

ঠাকুরপুকুর রাজাসাজার নাট্য সংস্থার প্রচেষ্টায় "নাট্য বিদ্যালয়"



রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, ঠাকুরপুকুর : রাজাসাজা নাট্যসংস্থা ১৯৯৩ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর স্থাপিত হয় এবং শীলপাড়া যুবক সংঘ ক্লাবের স্থায়ী মহলা কক্ষে নিয়মিত চর্চার কাজ চলে।২০২০ এর পর করোনা কালের ঠিক পর পর তাদের নতুন শাখা সংগঠনের উদ্বোধন হয় বিদ্যানগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় “বিদ্যানগর রাজাসাজা”। এই নতুন শাখার জন্ম লগ্ন থেকেই ৫ থেকে ১৫ বছরের বেশ কিছু তরতাজা ছেলে মেয়েদের নিয়ে চলে তাদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন নাটকের কাজ । কিন্তু কোথাও নির্দিষ্ট কোন রিহার্সালের বা চর্চার জায়গা না থাকায় নানান অসুবিধা সৃষ্টি হয় এবং আরো অনেক যুবক-যুবতী থিয়েটারে আগ্রহ প্রকাশ করে কিন্তু নির্দিষ্ট কোন ঠিকানা নেই বলে সেভাবে তারা ভরসা পায় না কাজ করার। তাও এখন বিদ্যানগর রাজাসাজায় ৩০ জন ছেলেমেয়ে কাজ করছে। সেখান থেকেই তাদের ভাবনা আসে নির্দিষ্ট একটা ঠিকানার জন্য এবং সঠিক চর্চা করার জন্য সঠিক জায়গা প্রয়োজন। ভাবনা আসে নাট্যবিদ্যালয় তৈরি করার। সেই অর্থে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনো নাট্য বিদ্যালয় নেই, যেখানে নিয়মিত থিয়েটারের পড়াশোনা করানো হয়, বা প্রতিদিন থিয়েটারে চর্চা করা হয়। এই চিন্তাভাবনা থেকেই ও প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েকে আরো যোগ্য করে তোলার জন্য কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার থিয়েটারের প্রশিক্ষক এনে তাদের শিক্ষিত করা হবে এবং তারপরই পাশাপাশি প্রযোজনার কাজ করা হবে। প্রথমে দলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটা ২০/২০ টিনের দর্মা ঘেরা ঘরের কথা ভাবেন তারা। বিদ্যানগরের পাশে চন্দনদহ গ্রামে একজন শুভানুধ্যায়ী শ্রী কার্তিক চন্দ্র হাজরা নাট্য সংস্থার পরিচালক শ্রী গৌরাঙ্গ হাজরার পিতা দু কাঠা জমি দান করেন দলকে। জমি পাওয়ার পর তারা ভাবেন যে আরেকটু বড় করে যদি আরো বেশি জনকে নিয়ে ক্লাস করানো যায়, যদি একটু কংক্রিটের করা যায়, সেটা কিভাবে সম্ভব ? তাই গত ১৯ এ মে ২০২৪ সালে বিদ্যানগর জেলা গ্রন্থাগার এ এলাকার সংস্কৃতি ও নাট্যপ্রেমী এবং রাজাসাজার শুভানুধ্যায়ী ও নাট্যকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে একটি কংক্রিটের নাট্য বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। যেহেতু কংক্রিটের ভাবনা ভাবা হয় সেখানে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন যেটা তাদের নেই যা হয় প্রতিটা নাট্য দলের। খরচ কমানোর জন্য ছেলেমেয়েরা নিজেরাই উৎসাহ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে “তারা নিজেরা জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে , রাজমিস্ত্রির কাজ করবেন তাদের হাতে হাতে কাজ করে সহযোগিতা করবে যাতে খরচ কম হয় “ এবং কথামতো ছেলে মেয়ে সহ তাদের অভিভাবকরাও এই কাজে হাত লাগায় । এই নির্মাণটি সম্পন্ন হবে সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতায়, কোন রাজনৈতিক বা সরকারি কোন অনুদানে নয়। এখনো পর্যন্ত প্রচুর মানুষ এগিয়ে এসেছেন, প্রত্যেকটা অভিভাবক এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ছেলেমেয়েদের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এই কাজটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সবাই ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করবেন।  মানুষের কাছে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আবেদন রাখছে রাজাসাজা নাট্যদল, স্বেচ্ছায় এক টাকা হলেও থিয়েটারের স্বার্থে, বাংলা সংস্কৃতির স্বার্থে যাতে সকলে দান করে। এই নির্মাণ কাজটি  ২৩ শে মে ২০২৪ ভূমি পূজার পর থেকেই কাজ শুরু হয়। এখনো পর্যন্ত প্রায় সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার কাজ হয়ে গেছে তাদের এবং বাকি এখনো চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার কাজ।  আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজাসাজার শুভ জন্মদিনে নাট্য বিদ্যালয়টি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকার প্রত্যেকটা মানুষ সহযোগিতা করছেন প্রত্যেকেই রাজাসাজা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।  গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুদান আসছে সবাইকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন।আর্থিক সহযোগিতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সহ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে ঠাকুরপুকুর রাজাসাজা  আবেদন রেখেছে স্বেচ্ছায় আর্থিক সহযোগিতার। এ ছাড়াও আমরা আর্থিক যোগানের জন্য সংস্থার পরিচালক গৌরাঙ্গ হাজরা সহ অন্যান্য নাট্যকর্মীরা রাস্তার ধারে ফুটপাতে গাছ বিক্রি করছেন, গাছ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং এর  আর্থিক সঞ্চয় নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে বলে তারা আশা রাখছেন। পরিচালক গৌরাঙ্গ হাজরার বলেন - "প্রয়োজনে ভিক্ষা করব, ফুটপাতে গামছা পেতে বসব। লোকের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষে করতে যাব, পথনাটক করে বিদ্যালয়ের জন্য ভিক্ষে চাইবো। নাট্যবিদ্যালয় আমরা গড়বই যত বাধা বিপত্তি আসুক।"


Wednesday, 22 April 2026

মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের বসুন্ধরা দিবসের প্রাক্কালে অঙ্কন কর্মশালা

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, মছলন্দপুর  : ব্যতিক্রমী নাট্য চর্চায় মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার অন্যতম । গত ২১ শে এপ্রিল ২০২৬ এ মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের আয়োজনে পদাতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল একটি আলপনা ও সরা অঙ্কন কর্মশালা। ২২ শে এপ্রিল বসুন্ধরা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে তার আগের দিন শুধুমাত্র মহিলাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল এই কর্মশালায় আঠারোর্ধ নানান বয়সের মোট ২৯জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। চারা গাছে জল দিয়ে প্রকৃতি রক্ষার শপথ নিয়ে কর্মশালা শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী সকলে মাটির সরার ওপর রং ও তুলির টানে আলপনার মাধ্যমে নিজের মনের মাধুরী ফুটিয়ে তোলেন। প্রতিদিনের সাংসারিক জীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সৃজনশীল এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে সকলেই তাদের আনন্দ ব্যক্ত করেন। প্রশিক্ষণে ছিলেন মছলন্দপুর আর্ট একাডেমীর কর্ণধার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কিশোর মল্লিক। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইমনের সভাপতি দোলা রায়, সম্পাদক জয়ন্ত সাহা ও গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের পরিচালক জীবন অধিকারী। জীবনবাবু বসুন্ধরা দিবস ও তাতে সকলের দায়িত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে কিছুটা হলেও বাঁচতে সকলকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করার আহ্বান জানান। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইমনের পরিচালক ধীরাজ হাওলাদার। সকলের আন্তরিক অংশগ্রহণে বসুন্ধরা দিবস উপলক্ষে ইমন মাইম সেন্টারের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে।

নাট্য আলাপনের উদ্যোগে অজয় গঙ্গা নাট্যোৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, কাটোয়া: গত ১লামার্চ কাটোয়ার নাট্যচর্চা কেন্দ্র নাট্য আলাপনের উদ্যোগে কাটোয়া রবীন্দ্র পরিষদে অনুষ্ঠিত হলো অজয় গঙ্গা নাট্যোৎসব। এদিন প্রদর্শিত হয় মাটিয়ারী থিয়েটার ক্যারাভেনের জেনারেশন গ্যাপ, কাটোয়া উল্লাসের জুতা আবিষ্কার এবং কাটোয়া জাগরী নিবেদিত নাটক মহাবিদ্যা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক পীযূষকান্তি সাহা। সংস্থার পক্ষ থেকে পীযূষকান্তি বাবু এবং শতাধিকবার রক্তদানকারী রক্তবন্ধু তোরণ শেখকে সংবর্ধিত করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রাক্তন পৌর প্রধান সমীরকুমার সাহা তার বক্তব্যে সংস্থার প্রয়াসের সাফল্য কামনা করেন। নাট্যোৎসবে উপস্থিত দর্শকেরা নাটকগুলি উপভোগ করেন এবং এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

Monday, 20 April 2026

আড়িয়াদহ নাট্যপীঠের ৬ষ্ঠ রঙ্গোৎসব "নানা রঙের থিয়েটার"

 

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা :  আড়িয়াদহ নাট্যপীঠ গত ২৮ ও ২৯ শে মার্চ কলকাতার প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার হলে তাদের বাৎসরিক নাট্যোৎসব ৬ষ্ঠ রঙ্গোৎসব - "নানা রঙের থিয়েটার" -এর আয়োজন করে।এই বছর এই নাট্যোৎসব ঋত্বিক ঘটকের জন্ম শতবর্ষকে উৎসর্গ করা হয়।গাছে জল দিয়ে এবং ঋত্বিক ঘটকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের শুরু হয়।ঋত্বিক ঘটক জন্ম শতবর্ষ স্মারক বক্তৃতা  দেন চলচ্চিত্র সমালোচক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মহাশয়।বিষয় ছিল থিয়েটারের ঋত্বিক।ঋত্বিক ঘটক রচিত বিভিন্ন নাটকের বিবরন এই বক্তৃতায় উঠে আসে,যা উপস্থিত সকল শ্রোতাদের সমৃদ্ধ করে।

প্রথম দিন ছিল আড়িয়াদহ নাট্যপীঠের নাটক সওয়া সের আটা,কলকাতা মিউটের মূকাভিনয় "চিকেন শো" এবং খড়দহ থিয়েটার জোনের নাটক লোক নাট্য গম্ভীরা অবলম্বনে "নানা হে"। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় আড়িয়াদহ নাট্যপীঠের নাটক "পোকা মাকড়ের কুটুমের" অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। তারপর অভিনীত হয় ভদ্রেশ্বর সংলাপের নাটক "রমনী ও কথা",হালিশহর বাংলার সিঞ্চনের নাটক ঠিকানা "ময়না দ্বীপ" ও আড়িয়াদহ নাট্যপীঠের নাটক "কি খবর ?" অন্তরঙ্গ পরিবেশে এই নাটক গুলির অভিনয় দর্শক দের মুগ্ধ করে।



Sunday, 19 April 2026

আলোর পাখি'র ২৫ শে পা


 রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : ১লা বৈশাখ ১৪৩৩ ইংরেজির ১৫ই এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, "আলোর পাখি-দত্তপুকুর" নাট্য সংস্থা ২৫ বছরে পা রাখলো। এই উপলক্ষ্যে 'দত্তপুকুর কলাভবনে' আয়োজন করা হয়েছিল সারাদিন ব্যাপি নানা রঙের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৩টের সময়। 'একক নাটক প্রতিযোগিতা'র মধ্য দিয়ে। মোট আটটি নির্বাচিত দলকে নিয়ে এই প্রতিযোগিতাটি হয়। জুরিদের বিচারে প্রতিযোগিতায় প্রথম শ্রেষ্ঠ প্রযোজনার পুরস্কার পায় চন্দননগর 'জাগরণ নাট্য সংস্থা' প্রযোজিত, শ্রী বরুণ রায় রচিত, নির্দেশিত ও অভিনিত "অসুখ" নাটকটি।কুমারী দেবলীনা সরকার অভিনিত  "বেহুলা ভাসান" নাটকটি দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে। কবি সব্যসাচী দেবের কবিতা অবলম্বনে নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ছিলেন শ্রী প্রণয় বিশ্বাস, প্রযোজনায় 'গাঁড়াপোতা শপ্তক'। তৃতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান সৌমেন মান্না। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় নাট্যরূপায়িত ও সত্যজিৎ প্রামানিক নির্দেশিত, পূর্বপুটিয়ারি কলকাতা নাট্যজন প্রযোজিত, নাটক  "নানা রঙে দিন"।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সেমিনার। যার বিষয় ছিল "থিয়েটারের জন্য দর্শক, নাকি দর্শকের জন্য থিয়েটার"। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব তথা গোবরডাঙ্গা নকসা নাট্য সংস্থার কর্ণধার শ্রী আশিস দাস, নাট্যকার তথা নাট্য বিশ্লেষক শ্রী প্রদীপকুমার নাথ ও নাট্য সমালোচক শ্রী সুশীল সাহা মহাশয়। থিয়েটার ও দর্শকের মধ্যে যে সুনিবিড় বন্ধন তা সুষ্পষ্ট করেন বক্তারা। থিয়েটারের টানেই দর্শকেরা আসেন। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই একই চিত্রের শুধু রূপ বদলাচ্ছে, এই দাবি নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেন আলোচক শ্রী প্রদীপকুমার নাথ। শ্রী আশিস দাস, সহজ সরল ভাবে তার বক্তব্যে থিয়েটার ও দর্শক সম্পর্ক নিয়ে সুবক্তব্য পেশ করেন। শ্রী সুশীল সাহা বলেন, 'থিয়েটার' ও 'দর্শক' এই দুইটি বিষয় হল একটি আরেকটির পরিপূরক।  বিশিষ্ট আবৃত্তিকার, আকাশবাণী ও দূরদর্শনের সংবাদ পাঠিকা শ্রীমতি স্বপ্না দে'র অসাধারণ সঞ্চালনায় সেমিনারটি আরও প্রানময় হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের অন্তিম পর্বে ছিল 'গোবরডাঙ্গা নকসা' প্রযোজিত দীপান্বিতা দাস রচিত ও নির্দেশিত নাটক "বিউটিফুল মাসি"। একক অভিনয়ে ভূমিসুতা দাস তাঁর অভিনয় প্রতিভার দাগ রেখে গেলেন। নিম্নবর্গের মানুষজন ও ভারতের ভূমিপুত্রদের উপর যে অত্যাচার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার নাটক "বিউটিফুল মাসি। সমাজ, রাজনীতিকে নিয়ে অসাধারণ এক প্রহসন। বাংলা থিয়েটারের উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে চলেছে 'ভুমিসূতা', তারই ইঙ্গিত আজ পেলেন দর্শকরা।

এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। পূর্ণ পেক্ষাগৃহে তাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি ও নাটক সম্পর্কে কৌতুহলে আলোর পাখির সমস্ত সদস্য সদস্যারা আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত। আলোর পাখি'র আশা আগামীর পথে পথে আলোর স্রোতে পাল তুলবে আরও হাজার হাজার প্রজাপতি।





Thursday, 16 April 2026

নাট্য আলাপনের বিশ্ব নাট্য দিবস পালন ও পত্রিকা প্রকাশ


পুষ্পেন বন্দ্যোপাধ্যায়, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : গত ২৯ শে মার্চ কাটোয়ার জনপ্রিয় নাট্যচর্চা কেন্দ্র নাট্য আলাপনের উদ্যোগে কাটোয়া হাসপাতাল পাড়ায় জাগরীর মহড়া কক্ষে একটি সুন্দর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো  ও সেইসঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে নাট্য আলাপনের বর্ষ সংখ্যা ও পিণ্ডীরা ইলোরা নাট্যসংস্থার কর্ণধার বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মলয় ঘোষ সম্পাদিত ইলোরা বর্ষকথা গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। চুমকি চক্রবর্তীর উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

বিশ্ব নাট্য দিবস ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন মলয় ঘোষ, জাগরীর সম্পাদক অপূর্ব চক্রবর্তী, কবি ও ছায়া ও বৃত্ত পত্রিকার সম্পাদক তপন দাস, কবিশেখর কালিদাস রায় স্মৃতিরক্ষা কমিটির কর্ণধার কবি গুরু প্রসাদ যশ, মাটিয়ারী ইচ্ছেপাখির কর্ণধার সুজিত দাস, সাংবাদিক পুষ্পেন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক বক্তা অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক বাসুদেব সিংহের এহেন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে গান ও কবিতা পরিবেশন করেন ময়ূখ দাস, তপন দাস সহ অন্যান্যজন। এদিনের অনুষ্ঠানে মলয় ঘোষ সৌমিত্র দাস পুষ্পেন বন্দোপাধ্যায়কে বিশেষ সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রক্তবন্ধু জয়দেব দত্ত, নাট্যকর্মী তপন ঠাকুর, শ্যাম রাই সুজিত চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন সৌরভ দত্ত।

শেমুশি নাট্য মিলন মেলা ২০২৬


দুলাল চক্রবর্ত্তী, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : হালিশহর বিনোদিনী মঞ্চে গত ২৭ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত তিন দিন ধরে ভারত সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায়, অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো শেমুশি নাট্য মিলন মেলা ২০২৬। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন পঞ্চ নবীনা অভিনেত্রী, শ্রীমা ভট্টাচার্য, শর্মিলা চ্যাটার্জী, সুজাতা ভট্টাচার্য, মৌমিতা মন্ডল এবং সহেলী সাহা। এই নাটকের অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল উপস্থিতি দিয়ে নাটকের কথা বলেছিলেন নাট্য আলোচক রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়, দুলাল চক্রবর্ত্তী এবং দেবাশীষ বন্দোপাধ্যায়। 

এই উৎসবে সবচেয়ে অভিনব একটি সেমিনার হয়েছে। বিষয় ছিলো " বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিতে থিয়েটারের শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ"। আলোচনা করেছেন এই প্রজন্মের দুই তরুণ সাগ্নিক সরকার ও সত্যব্রত দে এবং দুই তরুণী সহেলী সাহা ও শর্মিলা চ্যাটার্জী। এঁরা সকলেই অভিনেতা ও অভিনেত্রী।

যেহেতু বিশ্ব নাট্য দিবস ছুঁয়েই এই আয়োজন, তাই কিছু সমৃদ্ধ দলের নাটকের সাথেই প্রাসঙ্গিক বাণী পাঠ, নাটকের গান, নৃত্য, আবৃত্তি এবং রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য শাপমোচন ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়েছিল। শেমুশি সংস্থা অমৃত বিনোদিনী, মধু কবির শেষ সংলাপ এই দুই একক নাটক সহ হে অমৃতা, পাগল হাওয়া ইত্যাদি মঞ্চস্থ করেছিল। এছাড়া কাঁকিনাড়া  কলবিতান, ইছাপুর আলেয়া, হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চ, গরিফা নাট্যায়ন, আগরপাড়া কালপুরুষ, আগরপাড়া থিয়েটার পয়েন্ট, চাকদহ কলাকেন্দ্র, নৈহাটি সেমন্তী এবং হালিশহর উত্তরসূরী নাট্যদলের চলতি পাটক গুলি অভিনীত হয়েছিল। শেমুশি একটি যথেষ্ট ছোট নাটকের সংগঠন। কিন্তু বন্ধু দল ইউনিটি মালঞ্চের সাথে আরো অন্যদলের সহায়তায় বছরের বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের নাটকের উৎসবের মধ্যেই নিজেদের নাট্য মনস্কতাকে প্রতিপন্ন করে থাকে।

Monday, 13 April 2026

লালগোলা নাট্যসৃজনের ১০ম বর্ষ লালগোলা নাট্যোৎসব


রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা :  লালগোলা নাট্যসৃজনের আয়োজনে গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠিত হল  ১০ম বর্ষ লালগোলা নাট্যোৎসব। ওইদিন সন্ধ্যায়  মঞ্চস্থ হয় দুটি নাটক। সত্যজিৎ পালের নির্দেশনায় লালগোলা নাট্যসৃজনের নিজস্ব প্রযোজনা  'ভাড়াটে হইতে সাবধান' এবং প্রেমাংশু রায়ের নির্দেশনায় বালিগঞ্জ স্বপ্নসূচনার প্রযোজনা 'বিষমূল'। 'ভাড়াটে হইতে সাবধান' একটি হাসির এবং প্রাসঙ্গিক নাটক । অপরদিকে প্রেমাংশু রায়ের নির্দেশনায় এবং বিষমূল একটি সমসাময়িক ধর্মীয় প্রেক্ষাপটের উপর নাটক,যেখানে মূলত দেখানো হয়েছে আগে মনুষ্যত্ব তারপর ধর্ম। লালগোলা নাট্যসৃজনের পক্ষ থেকে সত্যজিৎ পাল বলেন, "এবারে আমাদের দশম বর্ষ। আমরা ২০১৬ সাল থেকে এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করে আসছি। এছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা নাট্যসন্ধ্যা ও নাটক বিষয়ক নানান কার্যকলাপ করে থাকি। এবছর আমরা আমাদের বাৎসরিক অনুষ্ঠান (নাট্যোৎসব) দুটো পর্বে করছি। এটি ছিল আমাদের প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান। আগামী জুলাই অথবা অগস্ট মাসে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান হবে লালগোলাতেই।

আমরা মূলত সামাজে ঘটে চলা নানান ঘটনাকেই মঞ্চস্থ করি, নাটকের মধ্যে সমাজে ঘটে চলা নানান বিষয়কে মানুষের সামনে নিয়ে আসি।।  এখন মানুষ ব্যস্ত সময়ে হাসতে ভুলে গিয়েছে। আমরা তাই আমাদের এই নাটকের মধ্যে দিয়ে মানুষকে হাসির খোরাক দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং বাড়ির মালিকসহ আরও বেশ কিছু প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে হাস্যরস পরিবেশিত এই নাটকে। এবারে আমাদের নাটকে আমন্ত্রিত ছিলেন বালিগঞ্জ স্বপ্নসূচনা নাট্যদল। তাঁরা বিষমূল নাটক মঞ্চস্থ করেন।" ভাড়াটে হইতে সাবধান' নাটকে অভিনয় করেন শান্তিময়ের চরিত্রে রাহুলদেব ঘোষ,নিশীথ ব্যানার্জীর চরিত্রে অর্ণব ভট্টাচার্য,প্রাণকিশোরের চরিত্রে অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য, তরুণের চরিত্রে অলক মন্ডল,রমানাথের চরিত্রে অরুণ কুমার দাস এবং অ্যাটমের চরিত্রে কিঞ্জল দাস,আবহ নিয়ন্ত্রণে আলমগির সেখ,আলো শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, আলোক নিয়ন্ত্রণে শ্রবণ সাহা। এই নাটকে প্রত্যেকের  অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছে।

বালিগঞ্জ স্বপ্নসূচনা নাট্য দলের কর্ণধার বিজয় মুখোপাধ্যায় বলেন, "ধর্মের ঊর্ধ্বে যে মানুষ আমরা আমাদের নাটকে সেটাই দেখাতে চেয়েছি। ধর্ম সাম্প্রতিক সময়,প্রেম এবং তার পরিণতি নিয়েই এগিয়েছে আমাদের নাটক। দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রেম ও তাদের দেখানো হয়েছে আমাদের এই নাটকে।"


 

Saturday, 11 April 2026

PLAYWRIGHT'S TALK

 AN INTERVIEW

PLAYWRIGHT : TUSHER ROY


  • How did your journey in theatre begin ?
  •  I have been associated with Faridpur Theatre since 2001. Over the years, I have taken on various responsibilities within the group. Most recently, I served as the General Secretary of the organization.

  • What areas of theatre have you worked in ?
  • In the earlier phase of my career, I was actively involved in both acting and directing. However, at present, I am primarily focused on playwriting and dedicating most of my time to writing.


  •  Which of your plays have been staged ?
  •  Several of my plays have been performed by different theatre groups. Some notable works include "Kantha","Gunin Akhyan","Raja Gilgamesh", "Manoshik Goddo","Panchamir Chand","Nishkritir Boyan","Shesh Samrat", and "Nil Kahon".

  •  Could you tell us about your style of playwriting ?
  •  Alongside original plays, I also enjoy adapting literary works and historical events into theatrical scripts. This approach allows me to bring diversity into my work and present meaningful narratives to the audience.


  •  How did you become involved with Japanese language, literature, and culture ?
  •  Since 2017, I have been serving as the CEO of the United Nations of Organisation Japan Asia Cultural Exchange, Bangladesh. Through this role, I have gained valuable experience working with Japanese language, literature, and culture. I have been using this experience to create plays based on stories by popular Japanese authors.


  •  Has your work received any international recognition ?
  •  Yes, indeed. An Indian theatre group, Kankinara Shilpangan, has already staged the production "PANCHAMIR CHAND", a drama written by me based on Sadat Hasan Manto's 'khol do'. They have successfully completed 9th show of this drama recently. They currently planning to stage my play "MAP of HELL". This is a matter of great pride and joy for me.


  • Tell us about your experience working with theatre and folk culture.
  • Due to my professional responsibilities, I have had the opportunity to work with theatre and folk culture across various districts of Bangladesh. These experiences have greatly enriched my creative perspective and writing.


  • Are you involved in any other creative or academic work ?
  •  Yes, I am actively engaged in writing articles and conducting research on diverse and emerging topics. Exploring new ideas is something I deeply enjoy.


  • What is your vision for the future of Bengali theatre ?
  •  My aspiration is for Bengali theatre to gain international recognition. I believe it is important to develop a professional theatre culture similar to that of developed countries, where theatre practitioners can sustain themselves entirely through their craft.


  •  What do you think is necessary to achieve this vision ?
  •  While many groups are already producing excellent work, sustaining this momentum requires strong support. Both government and private patronage are crucial to ensuring the continued growth and development of Bengali theatre.

ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে বিশ্ব নাট্য দিবস পালন


রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা :  ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে ২৭ শে মার্চ সাড়ম্বরে বিশ্বনাট্য দিবস উদযাপিত হল শ্রীভূমির মানিক্য মঞ্চে। সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হল। নাট্য দিবসের বার্তা পাঠ করলেন সান্ত্বনা হাজরা এবং বার্তা প্রেরকের পরিচিতি শোনালেন কাকলি রায়। নাট্য ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রাণী মৈত্রকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। নাটকের উপর সংক্ষিপ্তসারে সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করেন ইন্দ্রাণী মৈত্র। 

সম্মেলক কন্ঠে চারটি নাটকের গান পরিবেশন করলেন ই-কয়ারের শিল্পীরা। প্রতিটি গানের সঙ্গে তথ্যসূত্র পাঠ অনুষ্ঠানটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। ইরাণের ২৬ বছরের ফাঁসিপ্রাপ্ত তরুণীর মাকে লেখা শেষ মর্মস্পর্শী চিঠিটি সযত্নে পাঠ করে শোনালেন সোমা লস্কর। রবীন্দ্রনাথের সামান্য ক্ষতি কবিতার প্রশংসনীয় নৃত্যায়ন পরিবেশন করলেন শান্তা নন্দী। শব্দশিল্প সাহিত্যপত্রিকার হৈমন্তিকা সংখ্যাপ্রকাশের পর ইকোর নবতম প্রযোজনা স্পর্শ নাটক শিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মঞ্চস্থ করেন নাটকটির রচয়িতা সমীর দাশগুপ্ত পরিচালনা ও সমগ্র নির্মাণে ছিলেন ধনঞ্জয় আঢ্য।


 


Friday, 10 April 2026

অশনি নাট্যমের প্রযোজনা "মনোময়"।


 দুলাল চক্রবর্তী, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : ৭, হাজরা রোড, কলকাতা সুজাতা সদনে, গত ২রা এপ্রিল সন্ধ্যায় অভিনীত হয়েছিল অশনি নাট্যমের প্রযোজনা "মনোময়"। এযাবৎ প্রতি মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, এই সুজাতা সদনে নিজেদের নাটকের সাথে অন্যদলের একটি নাটক নিয়ে নিয়মিত অভিনয় অক্ষুণ্ণ রেখেছে, ১৯৭৪ সালের ১৫ই আগষ্টে প্রতিষ্ঠা নেওয়া, একসময়ের অন্যতম বিশিষ্ট নাট্যদল অশনি নাট্যম। সংস্থা এখনো এই খোলা বাজারের থিয়েটার বিকিকিনির বাজারের বাইরে থেকেই, নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ মোতাবেক নিজেদের করণীয় করে চলেছেন। নাটক মনোময় একজন থেমে যাওয়া মানুষের আক্ষেপ যন্ত্রণা দগ্ধ আত্মকথন। যে বাবা মায়ের সাথে উদবাস্তু হয়েই, এদেশে এসেছিল। যে তখন  দেখেছিল মানুষ কিভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের চাপে কোণঠাসা হয়ে মরছে। নিজেদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কিরকম ফন্দি ফিকিরের তালে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছিল। সে লক্ষ্য করেছিল, একজন সাধারণ মানুষকে এদেশে কিম্বা ওদেশে জন্ম থেকেই খিদের ভাত জোগার করতেই ওষ্ঠাগত প্রাণে লড়ে যেতে হচ্ছে। এভাবেই মানুষকে মারছে প্রকৃতি, কুচক্রী মানুষ এবং সমাজ ব্যবস্থার নাগপাশের আবদ্ধতা। তাই সে মারের বিরুদ্ধে স্বাধীকার চেয়েই গণতান্ত্রিক অধিকার চেয়ে সমাজ বদলের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলে ভিড়ে গেছিল। জীবনে তার প্রেম এসেছিল। কিন্তু নিরাপত্তা অনাস্থায় তার জীবন সাথী জুটেও টেকে নি। সারাজীবন মানুষের মুক্তি চেয়ে, সিস্টেম ভাঙ্গার লড়াই করে তাকে জেল আর পুলিশের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছিল। এখন তার চোখে দুঃস্বপ্ন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুটে আসে। একটা বাচ্চাদের স্কুলের গেট ম্যান জীবন। শুধুই আশা একদিন তার স্বপ্ন পূর্ণ হবে নতুন প্রজন্মের মিছিলের শক্তিতে।

একাই যথেষ্ট পরিশ্রম করে, অভিনেতা বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী, নিজের মতো করে এই নির্ভেজাল কিন্তু স্বপ্নে বিভোর মনোময় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। তাঁর সাহস আর স্পর্ধা এই নির্মাণের উপস্থাপনায়, আমাদের অনায়াস ভালবাসা পেয়ে যায়। আমাদের আত্ম সর্বস্ব যাপনে, খোলা বাজারের পণ্য সমান জীবনধারা, নিশ্চয় মনোময়কে ঈর্ষা করবে। কিন্তু মনোময় মনোভাবে ত্যাগে বিদ্রোহে বিপন্ন-বিস্ময়ের উপাদান হতে পারবে কি? পারলে এই নাটকের সারবত্তা প্রতিষ্ঠিত প্রতিজ্ঞা হতে পারতো। এই সময়ের মিথ্যাচার এই রাজনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে মনোময়রা সবাই জোট বদ্ধ হোক, প্রকৃত সুদিনের আশায়।

Thursday, 9 April 2026

মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর নতুন শিশু-কিশোর নাট্য "মিথ্যে রাজার দেশে"


রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা :  ইমন নাট্যমেলা ২০২৬ এ মছলন্দপুরের পদাতিক মঞ্চে গত ২২মার্চ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হল মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর নতুন শিশু-কিশোর নাট্য প্রযোজনা "মিথ্যে রাজার দেশে"। ইমনের প্রতি রবিবার শিশু-কিশোর মূকাভিনয় ও নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রণকারী ৩০জন ছেলেমেয়ে নির্মাণ করেছে এই নাট্য প্রযোজনা।

এ নাট্যে দেখা যায়,- বিটকেলপুর রাজ্যের রাজার আদেশে সেপাইরা আকাশ, নদী, রামধনু, রোদদের কোনো প্রয়োজন নেই বলে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয়। অট্টালিকায় আকাশ ঢাকা পড়ে, খোলা আকাশ না থাকায় পাখিরাও বিদায় নেয়, নদী শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আনন্দও যায় শুকিয়ে, শিশুরা মাঠ না পেয়ে শুধু ডুবে থাকে মোবাইলে, রোদের অভাবেও পরিবেশ নানাভাবে দূষিত হয়। এসব কথা মন্ত্রী রাজাকে না জানিয়ে বলেন রাজ্যে সব নাকি ঠিক আছে। তখন একজন সত্যিকার মানুষ এসে রাজার ভুল ভাঙিয়ে দেন। তিনি আসল সত্যিগুলো রাজার গোচরে আনেন। রাজাও ভুল বুঝতে পেরে সবাইকে রাজ্যে ফিরিয়ে নেন।

কবি রতনতনু ঘাঁটি-র কবিতা "মিথ্যে রাজার দেশে" আশ্রয় করে ওই একই নামে নাটক রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইমনের বন্ধু জয়ন্ত সাহা। ছোটদের এই নাটকটিতে আলো ও আবহ প্রয়োগও করেছেন তিনি। সহযোগিতায় ছিলেন ইমনের বন্ধু সীমা ও আবেরী প্রযোজনাটির সামগ্রীক তত্ত্বাবধান করেন ইমনের পরিচালক ধীরাজ হাওলাদার। দর্শকেরা ছোটোদের উপস্থাপনায় নাচ, গান আর অভিনয়ে অতি সহজ সরল ভঙ্গিতে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেবার এই প্রচেষ্টা এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ছোটদের নিয়ে ইমন মাইম সেন্টারের এই কাজের ভুয়সী প্রশংসা করেন। সামগ্রিকভাবে একটি ভালো উপস্থাপনা। ছোটদের এই নাট্য চলতে থাকুক। আগামীর জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

বহরমপুর ব্রীহি ১৭ তম মুক্তাঙ্গন নাটকের উৎসব


 দুলাল চক্রবর্ত্তী : কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং দলিত মানুষের সাথী সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম শতবর্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত হলো, ৩ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত, স্থানীয় শক্তিমন্দির মাঠে, ব্রীহির সপ্তদশ মুক্তাঙ্গন নাট্যোৎসব। এই আয়োজনে প্রতিদিন শুরুর সমবেত গানে অংশ নিয়েছিল বহরমপুর ব্রীহি ও ঋত্বিক এবং উত্তরপাড়া সমতট দলের শিল্পীরা। সর্বমোট ৮টি মুক্ত মঞ্চ নাটক পরিবেশিত হয়েছিল। প্রতিটি নাটকই ছিল তৃতীয় ধারার দর্শন ও মননে নির্মিত। নাটকগুলি সময়ের বার্তাকে তীব্র তীক্ষ্ণ করে দেখাবার চেষ্টাও করেছে। অভিনীত হয়েছিল ব্রীহি দলের দুটি প্রযোজনা যথাক্রমে "দোপদী মেঝেন" ও বাদল সরকারের "ভুল রাস্তা"। 

এছাড়া বেহালা আয়না সংস্থার " "সুকুমারের খোঁজে", কলকাতা স্বভাব মেয়েদের দলের "অঙ্গুরী কি শ শ ড্রেস", শ্রুতি ঘোষের "রেকুইয়েম জিক্র", কান্দি কোরাসের "শকুন কথা", কলকাতা রূপ ও রঙের "ডার্করুম" এবং উত্তরপাড়া সমতটের বাদল সরকারের নাটক "বীজ" অভিনীত হয়েছিল। এর সাথে ছিল বহরমপুর ধীমহী দলের নৃত্য নাট্য "মাতৃরূপেন সংস্থিতা"। নিজস্ব ভঙ্গিতে কবিতা পাঠ করেছিলেন কৃষিজীবী মানুষ আজিবর মন্ডল। এখানে উল্লেখ্য ২০০৭ সালে ব্রীহি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। জন্মলগ্ন থেকেই তৃতীয় ধারার নাটকের চর্চা করে আসছে। ব্রীহি আজ পর্যন্ত কোন প্রসেনিয়ামে নাটক মঞ্চস্থ করে নি। এই সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগেই মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে চলেছে। অভিনয়ের জন্য গ্রামপরিক্রমা করে থাকে। যদিও ব্রীহি সংস্থার ইচ্ছা প্রতি মাসেই গ্রাম পরিক্রমা করা। সব সময় সম্ভব হয় না। তবুও ব্রীহি আজ পর্যন্ত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারে কাছে কোন গ্র্যান্টের প্রত্যাশা করে না। কোন বৃহৎ পুঁজির দ্বারস্থ হয়ে নাটককে পণ্য করে পূঁজিবাদ নির্ভর দলের চেহারায় যায় নি। এই দলের নাটকের সমস্তটাই, নির্মাণে ও মঞ্চায়নে, দর্শনগত ভাবে তৃতীয় থিয়েটার ভাবধারা অনুসৃত। দল অর্থের প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের কাছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে, মানুষের চেতনাকে সার্বিক মুক্তি কল্পে মঞ্চায়িত করে যেতেই বদ্ধপরিকর থেকে কাজ করে চলেছে। মুলত বিলাসী থিয়েটার নির্মাণ করে, তা  দেখিয়ে,দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রি করে টাকা নিয়ে দলের নাট্যচর্চার শ্রীবৃদ্ধি করার বিপক্ষেই এযাবৎ এই দল হেঁটে চলেছে। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই মুক্তমঞ্ছ উৎসবে খোলা মাঠে, আকাশের তলে বসে, ব্যাপক মানুষের কাছে সময়ের বার্তা জ্ঞাপন করতে চায়। এখানেই ব্রীহির আয়োজনের মূল লক্ষ্য থাকে।


 ব্রীহি সংস্থা সংগঠনে বিশ্বাসী। ব্যক্তি উল্লেখে নয়। তবুও প্রধান ব্যক্তি দীপক বিশ্বাসের নেতৃত্বে ব্রীহি একটি দায়বদ্ধ নাট্য প্রযোজনা সংস্থা। এই সংস্থার বিগত প্রযোজনা, যৈবতী কন্যা, ভাসান, মনের ব্যাধ্য, কর্তার ভুত, কানামাছি, লক্ষ্মী ছাড়ার পাঁচালি, আমার ভারতবর্ষ,, আন্তিগোনে আজও, নাস বেদবতী, সিংহাসনের ক্ষয়রোগ, যারা উজানে ইত্যাদি নাটকে বিশেষ রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি ছিল। এই দল কোন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না হয়েও প্রকৃত ভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতায় এই সচেতন নাট্যকর্মকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বহরমপুর তথা মুর্শিদাবাদের প্রাচীন ঐতিহ্যে শ্রদ্ধাশীল ও নাট্যব্রতী ব্রীহি এই সময়ের মুক্ত মঞ্চ অনুসারী আদর্শিক প্রতিষ্ঠান। মুক্ত মঞ্চ উৎসব ঘিরে পুস্তক বিপনন ও সামগ্রিক পরিবেশ পরিকল্পনা একেবারেই আলাদা আভাস ছিল। এই উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে পিলসুজ শীর্ষক ৮ম ব্রীহি সাংস্কৃতিক সংস্থার বার্ষিক পত্রিকা। এই পত্রিকায় জেলার নবীন প্রবীণদের কিছু মূল্যবান রচনা আছে।



Wednesday, 8 April 2026

বাদপুর আগামী নাট্যরঙ্গ ২০২৬


 
রাজা দে, কাঁকিনাড়া, থিয়েটার মগজ পত্রিকা : পূর্ব বর্ধমানের অন্যতম নাট্যদল বাদপুর আগামী নাট্যগোষ্ঠী সারাবছর তাদের নিজস্ব সফল নাট্য  প্রযোজনা  রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চস্থ করে। পাশাপাশি অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব, অঙ্গন নাটকের উৎসব, বিশ্ব নাট্য দিবস পালন, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস পালন নাট্য কর্মশালা  নাটক পাঠের আসর সহ সারাবছর নানা কর্মসূচি পালন  করে এই সংগঠন।  পাশাপাশি প্রতিবছর বিশ্বনাট্য দিবসকে কেন্দ্র করে তিন দিনের নাটক উৎসবের আয়োজন করে বাদপুর আগামী নাট্যগোষ্ঠী। এবছর গত ২৭শে মার্চ বিশ্বনাট্য দিবসের বিশেষ দিনে অঙ্গনে রঙ্গ এই শিরোনাম অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবছরের আগামী নাট্যরঙ্গ ২০২৬ শুভ উদ্বোধন হয়. প্রখ্যাত অঙ্গন থিয়েটারের দল বিসর্গ থিয়েটার  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  প্রহসন অবলম্বনে প্রযোজিত করে অঙ্গন নাট্য বোকা পাঁঠার জীবন দর্শন।


পরের দিন উৎসবের প্রারম্ভে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাদেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অভি চক্রবর্তী এবং  নাট্য ব্যক্তিত্ব সুদীপ্ত দত্ত  আগামী নাটরঙ্গ ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করে। এরপর উৎসবের  প্রথম নাটক অশোকনগর নাট্যমুখ প্রযোজিত অভি চক্রবর্তী রচিত নির্দেশিত নাটক  ভারতবর্ষ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। রমাপদ চৌধুরী গল্প অবলম্বনে  এই নাটকে অভিনয় করেন প্রখ্যাত নাট্য শিল্পী  অমিত সাহা। অসাধারণ  অভিনয়  আবহ মঞ্চ আলো আর বুদ্ধিদীপ্ত নির্দেশনায় মঞ্চস্থ  এই নাটক দর্শকদের জয় করে নেয়। ওইদিনের  দ্বিতীয় নাটক মঞ্চস্থ হয় গয়েশপুর সংলাপ প্রযোজিত নাটক গল্প অল্প স্বল্প। নাটক ও নির্দেশনা সুদীপ্ত দত্ত।  মানুষের জীবনের ফিরে ফিরে আসে নষ্টালজিয়া। পুরনো দিনগুলোকে ছোঁয়া তার স্মৃতিচারণ  গুলো, ফিকে হয়ে যাওয়া ভালোলাগা গুলোকে ফিরে ফিরে দেখা, পেতে চাওয়া দুই জীবনের এই নাটক মানুষের মন জয় করে।


এরপর মঞ্চস্থ হয় বিভাস রায়চৌধুরীর কবিতা অবলম্বনে অভি চক্রবর্তী রচিত ও নির্দেশিত  বাদপুর আগামী প্রযোজিত নাটক অ্যাসিড পাথরের কাব্য।জড় বস্তু পাথর, রাসায়নিক পদার্থ অ্যাসিড বা আগুন কে সদর্থক ব্যাবহারের পাশাপাশি সমাজের ক্ষমতাবান প্রভাবশালী  কিভাবে তাদের খারাপ কাজে ব্যবহার করে এবং এই ব্যবহৃত হাওয়ায় ক্ষেত্রে অ্যাসিড পাথরদের  আপত্তির কোন মূল্য থাকে না। কারণ তারা সজীব নয় আপত্তি করার ক্ষমতাও তাদের নেই। তাই তাদেরকে সমাজের ভালো কাজের পরিবর্তে ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় দিন  ২৯ শে মার্চ এই মঞ্চেই মঞ্চস্থ হয় হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চের প্রযোজিত নাটক উজান গাঙে। প্রায় ৩০ বছর আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চস্থ হওয়া।জনপ্রিয় নাটক পুনরায় নতুনভাবে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন  করেছে হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চ।মাটির শিল্প লোকশিল্পের যখন নগরে পণ্যে রূপান্তরিত হয় তখন তা শুধুমাত্র বাণিজ্যের বস্তু।গান বিক্রির জন্য যখন বাণিজ্যিক সংস্থা সেটাকে পন্য করে সেই শিল্পের শিল্প সত্তা হারিয়ে যায়। শিল্পী বিভ্রান্ত হয়, মানতে পারেনা তার গানের মূল্য নির্ধারণ হবে বাজারের দাড়িপাল্লায়। বিভ্রান্ত শিল্পী শিল্পের মৌলিকত্ব বাঁচানোর আপ্রান চেষ্টা করে। ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যা করে।এভাবেই এ নাটকের নাটকীয়তার সমাপতন ঘটে।


পরবর্তী নাটক ব্যান্ডেল নান্দনিক প্রযোজিত সমীরণ সমাদ্দার রচিত নির্দেশিত পিঙ্গল পিঞ্জর। সমাজের ঘটে যাওয়া ঘটনা, শাসক শ্রেণির সাধারণের প্রতি অবিচার অন্যায় তা তুলে ধরা সাংবাদিকের অন্যতম কাজ। এ বিষয়ে জনমত গঠন করে  রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চালনা করতে সাহায্য করা সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু গণতন্ত্রের চতুর্থ  স্তম্ভ এই সংবাদ মাধ্যম,  বলা ভালো তাদের সাংবাদিকরা যখন অর্থ লোভে বা ভয়ে ভীতিতে সত্যকে চাপা দেয় বা  সত্যকে উন্মোচিত করতে ভয় পায়, তখন সমাজের পক্ষে তা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এই নাটক সে কথাই বলে। তৃতীয় দর্শনের নাটক ছিল হারানো সুর। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় বৃষ্টি বর্ধমান মুক্তমনন স্পীডের  নাট্যটি  মঞ্চস্থ হতে পারল না। অগণিত মানুষের উপস্থিতিতে তিন দিনের এই নাটক উৎসব  সফল আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।

Tuesday, 7 April 2026

সূচনার নাট্য উৎসব ২০২৬

রাজা দে, কাঁকিনাড়া: সম্প্রতি হয়ে গেল সূচনা বগুলার নাট্য উৎসব ২০২৬ গত ১৭ ও ১৮ই জানুয়ারী বগুলা সবপেয়েছির আসরমাঠে। অখিলেশ মুখার্জির উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর অভিনীত হয় কৃষ্ণনগর সিঞ্চনের দুরবীন ও বাউরিয়া চিত্তপটের নাটক পিংকি। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ছিল আকাশ দত্তর আবৃত্তি।
এরপর ২টি নাটক পরিবেশিত হয়। নবদ্বীপ তরুন নাট্যগোষ্ঠীর রমনীমোহন ও সূচনা'র নতুন নাটক গল্প হেকিমসাহেব। দুদিনে মোট প্রায় ৪৫০মানুষ থিয়েটার দেখেছেন এবার। নিয়মিত দর্শক তৈরী করে চলেছেন বগুলা অঞ্চলে সূচনা বগুলা। বাংলা থিয়েটারে ব্যতিক্রমি নাট্য চর্চা করে চলেছেন সূচনা । প্রতিবছর নাট্য উৎসব করে বগুলার মানুষকে ভালো নাটক দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন বগুলা সূচনা ।

দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...