Saturday, 23 May 2026

বিষাণের নাট্যমেলা ২০২৬-২৭

 

দুলাল চক্রবর্ত্তী , থিয়েটার মগজ পত্রিকা, মালদা : ১৯৭৭ সাল থেকে চলমান-চিত্রে ধারাবাহিক নাট্যমগ্নতায়, মালদা গাজোলের বিষাণ একটি নাট্য সংস্থা জেলার গর্ব হতে পেরেছে।তাই সেই মর্মেই, গত ১২ থেকে ১৪ই মে ২০২৬ পর্যন্ত, গাজোলের বিষাণ একটি নাট্য সংস্থা র পঞ্চাশ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের সূচনা করে, সংস্থার প্রথম পর্বের নাট্যমেলায় নিজস্ব পাঁচটি প্রযোজনার মঞ্চায়ন করেছিলো। বিষাণ অঙ্গনের নিজস্ব মঞ্চে, নিজেদের প্রযোজনায়, তিন দিনের এই নাট্যমেলা অনুষ্ঠিত করতে পারায় ছিল, সংস্থার এযাবৎ অর্জিত শক্তির নমুনা প্রদর্শন। শুরুর দিন, ১২ই মে বিকাল চারটায় বিশিষ্ট অভিনেতা শ্রী সঞ্জীব সরকার, শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যকার সুব্রত কাঞ্জিলাল, বিশিষ্ট নাট্যজন সন্তু সাধু খাঁ, অভি চক্রবর্তী, দুলাল চক্রবর্তী, তপন সেনগুপ্ত প্রমুখ সহ মালদা জেলার বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় নাট্যমোদী দর্শকদের সাথে নিয়ে বিষাণ সংস্থা, পায়ে পা মিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য পথ পরিক্রমা করেছিলো। এরপর এইদিন, বিকাল ৫.১৫ মিঃ এ বিষাণের নিজস্ব মঞ্চে উদ্বোধন সংগীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। উপস্থিত শ্রী সঞ্জীব সরকার সহ আগত অতিথি নাট্য বন্ধু, গাজোলের বিশিষ্ট শিল্পপতি মাননীয় শ্রী বিধান চন্দ্র, গাজোল ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মাননীয় শ্রী কাজল কুমার কুন্ডু সহ স্থানীয় অতিথিদের হাতে ৫০ টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল। এদিন স্বাগত বক্তব্যে বিষাণ এর নাট্য পরিচালক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্থার দীর্ঘ পথ চলার প্রত্যয়িত ইতিহাস ব্যক্ত করেছিলেন এবং আগামী সময়ের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছিলেন। উপস্থিত মান্য জনেরা নিজের উপলব্ধিতে বিষাণ কিভাবে প্রাসঙ্গিক, এই মর্মের দীর্ঘ হৃদয় কথায় বিষাণ সম্পর্কে তাঁদের অনুভব ব্যক্ত করেছিলেন।

এদিন ছিল সংস্থার নাট্য প্রশিক্ষণ আকাদেমির প্রশিক্ষার্থীদের নিয়ে মনোজ মিত্রের হনুমতির পালা অবলম্বনে, সংস্থার পবন পালের নির্মাণে নাটক "মন্দোদরী হরণ" অভিনয় শুরু হয়েছিল। কিন্তু  প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নাটকটি মঞ্চস্থ হতে পারে নি। তাই পরের দিন যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক উপস্থিতিতে এই নাটকের সুষ্ঠ মঞ্চায়ন হয়েছিল। সাথে ছিল, ১৩ ই মে নির্ধারিত পরিকল্পনায় দ্বিতীয় দর্শনে অভিনীত হয়েছিলো, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের রচনা ও চালনায় অণু নাটক "প্লাটফর্ম বুকের বাম দিকে"। তৃতীয় দর্শনে মঞ্চস্থ হয়েছিল  আগাথাকৃষ্টি র বিখ্যাত থ্রি ব্লাইন্ড মাইস গল্প নিয়ে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ নাটক"ফাঁদ"। নাট্যরূপ শ্রী দীপক মন্ডল। নির্মাণে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ২০২৪ সালে নির্মিত উপস্থাপনা। 


বিষাণ ২০২৬-২৭ বর্ষ নাট্য মেলার শেষ দিন, ১৪ই মে, প্রথম দর্শনে সংস্থার শিশু কিশোর বিভাগের খুদে শিল্পীরা অভিনীত করেছিলো, সম্পাদিত রবীন্দ্র নাটক "ডাকঘর"। এই নাটকের নির্মাণে সামগ্রিক ভাবনায় ছিলেন তরুণ অভিনেতা প্রলয় সরকার। শিশুরা দাপিয়ে মঞ্চের উপর নিজেদের ক্ষমতা তুলে ধরেছিলো। এদিনের দ্বিতীয় তথা প্রথম পর্বের নাট্য মেলার শেষ নাটক ছিল "লজ্জা'। নাটককার শ্রী সত্যজিৎ দত্ত। নির্মাণে ছিলেন সুশান্ত বলো। এটি ২০২৫ বর্ষের নির্মিত প্রযোজনা। একটি দুঃসাহসিক রাজনৈতিক বক্তব্যের এই নাটক সমকালীন কণ্ঠের প্রতিবাদ শানিয়ে চমকে দিতে পেরেছিলো। এখানে লক্ষণীয় বিষয়, এই ২০২৬-২৭  বর্ষে, প্রথম পর্বের নাট্যমেলায় সংস্থার বিভিন্ন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দিয়ে চারটি নাটক নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়,পরিচালনাতেও তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসা নাট্য কর্মী,পবন পাল, প্রলয় সরকার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত প্রমুখেরা নিজের নাট্য ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। এটি ৫০ বছরের বিশেষ প্রাপ্তি। এই তিন দিনের অনুষ্ঠানে দর্শক উপস্থিতিও  চোখে পড়ার মতো ছিলো। স্থানীয় নাট্য প্রেমি মানুষ উপস্থিত হয়ে, বিগত সময়ের আলোকচিত্র সহ নানা তথ্য দেখে, ইতিহাস অবগত হয়ে বিষাণ সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। নিজেরা, নিজেদের বিষাণ অঙ্গনে ৫টি প্রযোজনার ক্রমিক মঞ্চায়নে বিষাণ শিল্পীরা শক্তিশালী ভূমিকায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।



আকাঙ্ক্ষার উদ্যোগে চারদিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি : তরুণ তুর্কি নাট্যদল গোবরডাঙ্গা আকাঙ্ক্ষা নাট্য সংস্থার উদ্যোগে গত ১৩ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সংস্থার নিজস্ব ‘উপাসনা’ নাট্যগৃহে আয়োজিত হয় চারদিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা। নাট্যচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন হয়। এই কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণ কুমার বিশ্বাস, যিনি গোবরডাঙ্গা নাট্যায়নের কর্ণধার ও পরিচালক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তাপস দাস  বাবুপাড়া আত্মজ নাট্য সংস্থার কর্ণধার ও পরিচালক এবং গোবরডাঙ্গা আকাঙ্ক্ষা নাট্য সংস্থার অভিনেতা ও তরুণ পরিচালক দীপাঙ্ক দেবনাথ।

চারদিনের এই কর্মশালায় মূলত বাচনভঙ্গি এবং শরীরবৃত্তীয় কাজের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সংলাপ উপস্থাপনা, কণ্ঠস্বরের ব্যবহার, দেহভঙ্গি, মঞ্চে চলাফেরা এবং শরীরী অভিব্যক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের। নাটকের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও সুসংহত করে তুলতেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয় বলে জানান উদ্যোক্তারা। এই প্রসঙ্গে তনুশ্রী দেবনাথ (দত্ত), সংস্থার সম্পাদিকা বলেন, “নাট্য কর্মশালাই নতুন শিল্পী প্রস্তুতের প্রধান হাতিয়ার। তাই থিয়েটারের অ-আ-ক-খ ভালো করে জানা এবং আয়ত্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”

চারদিনব্যাপী এই কর্মশালা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন শিক্ষণীয় হয়ে ওঠে, তেমনই গোবরডাঙ্গার নাট্যচর্চার ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা পড়ে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি ও দক্ষ শিল্পী গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ আগামীদিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন নাট্যপ্রেমীরা।

Thursday, 21 May 2026

"বহরমপুর গাঙচিলের ‘সামার ক্যাম্প’ ২০২৬ , রোদ্দুরে নাটকের রঙ"

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, বহরমপুর :  ​গত ১০ থেকে ১২ মে, ২০২৬—এই তিন দিন বহরমপুরের স্বর্ণপ্রদীপ কলা স্পন্দন (পি.সি.চন্দ্র জুয়েলার্স বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তল) সেজে উঠেছিল এক ভিন্ন মেজাজে। বহরমপুর গাঙচিল আয়োজিত তিন দিনের ‘সামার ক্যাম্প’-এ মেতে উঠেছিল ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছোটরা। চারুকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম থিয়েটারের আঙিনায় শৈশবকে নতুন করে চেনার এক অনন্য সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই কর্মশালা। 

​পুরো কর্মশালাটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন রাহুল দেব ঘোষ এবং গাঙচিলের সদস্য,সদস্যরা। প্রথম দুই দিন খুদে শিক্ষার্থীরা থিয়েটারের প্রাথমিক ব্যাকরণ ও খুঁটিনাটি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা নেয়। তাদের এই যাত্রায় মেন্টর হিসেবে পাশে ছিলেন ডঃ স্বাতী দাস, অলোক বিশ্বাস, প্রেমাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং প্রদীপ মন্ডল-এর মতো গুণী ব্যক্তিত্বরা। বড়দের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে ছোটরা কুড়িয়ে নেয় সৃজনশীলতার নানান উপকরণ। সমাপনী দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী সন্দীপ ভট্টাচার্য। তাঁর বিশেষ অভিনয় ক্লাসে শুধু শিশুরাই নয়, উপস্থিত বড়রাও যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন তাঁদের ফেলে আসা শৈশবে। তাঁর প্রাণবন্ত শিক্ষা পদ্ধতি উপস্থিত সকলের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়।

​তিন দিনের এই নিবিড় অনুশীলনের পর ক্যাম্পের শেষ লগ্নে খুদে সদস্যরা পরিবেশন করে চমৎকার সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাদের উচ্ছ্বাস আর সৃজনশীলতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সঠিক মঞ্চ পেলে আগামী দিনের প্রতিভারা কতটা উজ্জ্বল হতে পারে। সামার ক্যাম্প শেষ হলেও গাঙচিলের পথচলা থেমে থাকছে না। আগামী জুন মাস থেকে প্রতি রবিবার ছোটদের জন্য নিয়মিত নাটকের ক্লাস শুরু হতে চলেছে। পাশাপাশি, আগামী ডিসেম্বর মাসে তারা আয়োজন করতে চলেছে পাঁচ দিনের একটি বিশেষ কর্মশালা।

"বাগুইআটি সহজিয়ার সহজ নাট্যোৎসব ২০২৬"

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, বাগুইআটি  : বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার অষ্টম জন্মদিন ও প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গত ১০, ১১ ও ১২ মে ২০২৬ তারিখে অত্যন্ত সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য নাট্যোৎসব—"'সহজ নাট্যোৎসব ২০২৬"। কলকাতার ‘পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অ্যাকাডেমি’র অন্তর্গত তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। গত ১০ মে ২০২৬, রবিবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে এক গৌরবময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা ঘটে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য, শ্রী সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রী জয়েশ ল। এরপর তনিমা দাশগুপ্তের অনবদ্য উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে মূল উৎসবের মঞ্চ প্রস্তুত হয়। এই উৎসবের দিনগুলিকে মোট চারটি পর্বে ভাগ করে একাধিক প্রতিভাবান নাট্যদলের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ১০ মে দুটি পর্বে নাটকগুলি পরিবেশিত হয়। দুপুর ২ টো থেকে শুরু হওয়া প্রথম পর্বে মঞ্চস্থ হয় বেশ কিছু মননশীল নাটক। এর মধ্যে ছিল বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা 'হাইকু' (রচনা ও একক অভিনয়ে : অর্ণিশা সেন, নির্দেশনা : প্রশান্ত সেন) এবং 'আঁধার রাতের জ্যোৎস্না' (নাটক ও নির্দেশনা: প্রশান্ত সেন)। এছাড়াও ছিল সোদপুর রাইজ-এর 'আদিম' (রচনা : অনজন দাশগুপ্ত, নির্দেশনা : বিপ্লব মালাকার), বেলঘরিয়া সম্বিত-এর 'জেনারেশন গ্যাপ' (রচনা ও নির্দেশনা : বিশ্ববসু দত্ত) এবং সাদার্ন এভিনিউ চরের্বেতি-র 'ফু' (রচনা ও নির্দেশনা : শান্তিপ্রিয় মুখোপাধ্যায়)। 

এরপর বিকেল ৪ টে ৪৫ থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে বালিগঞ্জ আরুষি-র 'সঞ্জয় উবাচ' (রচনা : আয়োজিত রায়, নির্দেশনা : সুমিত দাশগুপ্ত), রানিকুঠি আঙ্গিক-এর 'নোলা' (রচনা : রঞ্জনা ভঞ্জ, নির্দেশনা : সুতপা চক্রবর্তী), বেহালা থার্ড বেল-এর 'অপেক্ষা'‌ ,(রচনা : প্রবালকুমার বসু, নির্দেশনা : শান্তনু ভট্টাচার্য), বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার 'কুয়াশার জলছবি' (রচনা ও নির্দেশনা : প্রশান্ত সেন), যাদবপুর নাট্য ঐক্য-এর 'দুর্গতিনাশিনী (রচনা ও নির্দেশনা : সুজন সাহা)', সন্তোষপুর মনন-এর 'ভগবান' (রচনা ও নির্দেশনা : সাগ্নিক কোলে এবং ঢাকুরিয়া নাট্যমুখ-এর 'একটি রাজকীয় মৃত্যু' (রচনা : মন্মথ রায়, নির্দেশনা : দেবজ্যোতি ঘোষ) নাটকগুলি দর্শকদের দারুণভাবে সমাদৃত হয়।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন, ১১ মে ২০২৬, বিকেল ৪ টে ৪৫ থেকে শুরু হয় তৃতীয় পর্ব। এই পর্বেও বৈচিত্র্যময় নাটকের ডালি নিয়ে হাজির হয়েছিল বিভিন্ন নাট্যদল। গড়িয়া সুচর্চা-র 'কর্পো-ভূত উবাচ' (রচনা : শুভায়ণ ও দীপ্যমান, নির্দেশনা : নন্দন ভট্টাচার্য), বাক্সা ব্রাত্য নাট্যজন-এর 'পথের বাঁকে' (রচনা ও নির্দেশনা : সুজিত বসু), ব্যারাকপুর ময়ূখ-এর 'ক্রান্তি' (রচনা ও নির্দেশনা : সুমন লোহ), বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার 'অঘমর্ষণ' (রচনা : দীপক গুপ্ত, সম্পাদনা ও নির্দেশনা : প্রশান্ত সেন), জপুর সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গন-এর 'এপিসেন্টার' (রচনা : মৃণাল দে, নির্দেশনা : সমীর দে), রোদ্দুর (বিদ্যানগর শাখা)-র 'বাঁচাও তাহারে মারিয়া' (রচনা ও নির্দেশনা: শুভাশিস খামারু) এবং ডোডোর দুষ্টুমির ক্লাস-এর 'Fresh Breath' (রচনা ও নির্দেশনা : ডোডো বিশ্বাস) নাটকগুলি মঞ্চস্থ হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

১২ মে ২০২৬, উৎসবের শেষ দিনে বিকেল ৪ টে ৪৫ থেকে চতুর্থ পর্বের নাট্যানুষ্ঠান শুরু হয়। এই সমাপনী পর্বে মঞ্চস্থ হয় বেলেঘাটা কৃষ্টি সৃষ্টি-র 'অনুভব' (রচনা : অর্পণ মণ্ডল ও নির্দেশনা : সায়ন চক্রবর্তী), থিয়েটার পুষ্পক-এর 'রাখোহারি আল্লারাখা' (রঞ্জন প্রসাদের কবিতা অবলম্বনে নাট্যরূপ ও নির্দেশনা : আলোকপর্ণা গুহ), নেতাজিনগর সরস্বতী নাট্যশালা-র 'কাঁথা' (রচনা : মোহিত চট্যোটোপাধ্যায়, নির্দেশনা : আরুষ দত্ত) বেলঘরিয়া থিয়েটার একাডেমি-র 'নাসিকা ঝঞ্ঝাট':(রচনা ও নির্দেশনা : প্রশান্ত সেন), বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার 'শম্বুক বধ পালা' (রচনা ও নির্দেশনা : প্রশান্ত সেন) , ব্যারাকপুর প্রয়াস নাট্যগোষ্ঠী-র 'PhonePe ভিখারী' ( রচনা : ড. অপূর্ব কুমার দে, নির্দেশনা : রণধীর রায়) এবং আবছায়া থিয়েটার গ্রুপ-এর 'নয়া বীরপুরুষ' (রচনা : ড. প্রতাপ চন্দ্র চন্দ্র, নির্দেশনা : শুভমিতা)।

জমজমাটি পরিবেশে নাট্যযাপনের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থা-র অষ্টম জন্মদিন। জন্মদিনে্য কেক কাটেন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সদস্য সচিব শ্রী শান্তনু চক্রবর্তী। প্রতি বছরের মতো এই বছর দুজন সহজ সদস্যদের (গৌরব ঘোষ ও কৃত্তিকা বোস) সম্মানিত করা হয়। তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন নাটকটার, নির্দেশক, অভিনেতা, লেখক, চিকিৎসক ও নাট্যসংগঠক ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্য মহাশয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির আলোর দায়িত্বে ছিল সুবল কর্মকার, মিউজিকের দায়িত্বে ছিল অর্ণিশা সেন ও কৃত্তিকা বোস এবং সেট সরঞ্জাম ও রিকুইজিশনের দায়িত্বে ছিল সুদান হালদার, দীপঙ্কর হালদার, গৌরব ঘোষ, প্রত্যুষা সেন ও রকি বিশ্বাস।

সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার ব্যাটন সামলেছেন বিশিষ্ট নাটককার শ্রী মৃণাল দে। সব অনুষ্ঠানের শেষে তাঁকেও সম্বর্ধিত করেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য। এই উৎসবের চারদিনই দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, সুস্থ ও মননশীল নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার বুকে নিয়ে বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার এই অষ্টম জন্মদিন উদ্‌যাপন তথা 'সহজ নাট্যোৎসব ২০২৬' নাট্যপ্রেমী ও আপামর দর্শকের সক্রিয় উপস্থিতিতে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হল।

Monday, 11 May 2026

মেঘ মুলুকে বর্ষবরণ ১৪৩৩


রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, নিউটাউন :  বাংলার নববর্ষকে মেঘ মুলুকে নাট্যদল বিগত দশ বছর ধরে সমারোহের সাথে বরণ করে চলেছে। নাট্যচর্চার পাশাপাশি নতুন বছরের আলোকে বাঙালির সংস্কৃতিচর্চাকেও পাথেয় করে এগিয়ে যেতে চায় তারা। এবারের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আলপনা পার্বণ। নিজেদের বর্ষবরণ কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে মেঘ মুলুকে একটি আলপনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সেখানে তারা স্থানীয় শিল্পীদেরকে এই অভিনব সুযোগ করে দিয়েছে। শিল্পীরাও তার যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। ভালবাসার তুলিতে তারা তাদের গুণপনায় রাজারহাট- নিউটাউনের জ্যোতিনগরের বি ব্লকের রাস্তাটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।অপরদিকে পাড়ার সকলের সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একটি গোটা পাড়ার মানুষ যেনো এই উৎসবে একে অপরের হাত ধরে একটি সুসংকল্পকে সুষ্ঠুভাবে রূপায়িত করেছে। সব বয়সের মানুষই সেখানে পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।সারা বছরই তারা এভাবে মেঘ মুলুকে-র পাশে থেকে আরো সাহস ও ইন্ধন জুগিয়ে চলেছে।

১৫ই এপ্রিল ২০২৬(১লা বৈশাখ ১৪৩৩) বাংলা বছরের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। বিকেলে ছোটদের আঁকা প্রতিযোগিতা খেয়াল খোলা রঙের মেলা দিয়ে এই দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিযোগিতার চেয়ে এটিকে ক্ষুদে আঁকিয়েদের মুক্তমঞ্চই বলা যেতে পারে। যেখানে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা তাদের রঙিন উৎসাহে নিজেদের কাগজগুলিতে নিজেদের মনের প্রতিফলন ফেলে চলেছে। এই ছানাদের নিয়েই মেঘ মুলুকে সারা বছর ভিন্ন স্বাদের নাটক তথা সাংস্কৃতিক উদযাপন করে চলেছে। এরপর অনুষ্ঠানের ঝুলিতে ছিল , মেঘমুলুকের মেঘ ছানাদের নাটক: গল্পে গানে সহজ পাঠ। বারুইপুর গঙ্গারিডি পাপেট থিয়েটারের পুতুল নাটক এক বৃন্তে দুটি কুসুম। নির্দেশনায়: ড:প্রদীপ সরদার। রবীন্দ্রভারতী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রযোজনায় ছিল মানিকবাবুর খবর এবং থিয়েলাইট এর প্রযোজনায়, শ্রী অতনু সরকারের নির্দেশনায় নাটক: ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ। এছাড়াও মেঘমুলুকের মেঘছানাদের সাথে সময় কাটাতে এসেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী শ্রীমতি ভাস্বতী রায়। তার কথালাপের বাতাবরণ ছোটদের সাথে সাথে সকল দর্শকদের আপ্লুত করেছে। 

সব শেষে ছিল মেঘ মুলুকে-র বন্ধুজন সংবর্ধনা। যারা সারাবছর নেপথ্যে থেকে মেঘের দলের সব কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ও ভালোবেসে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগান তাদেরকে  প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানে মেঘ মুলুকে  ভালোবাসা ও সম্বর্ধনা জানিয়ে থাকে । সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার- এর অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায় এবারের মেঘ মুলুকে বর্ষবরণ হয়ে উঠেছিল চাঁদের হাট। হৈ হৈ করে তারা যেভাবে বাংলার নববর্ষর আনন্দকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস করেছে তা প্রশংসনীয়। এভাবেই এগিয়ে চলুক মেঘ মুলুকে নাট্যদল।




Sunday, 10 May 2026

গোবরডাঙ্গা নকসায় নাটকে কথায় গুরু প্রণাম

দুলাল চক্রবর্ত্তী , থিয়েটার মগজ পত্রিকা, গোবরডাঙ্গা : গোবরডাঙ্গা নকসা'র ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন আসর বসেছিল ১লা মে ২০২৬ তারিখে, বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্রে। সংস্থার সাথে জড়িত শিশু কিশোর কিশোরী শিল্পী কুশীলব, তাদের অভিভাবক মা বাবা, এবং গোবরডাঙ্গা অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি কর্মীরা সবমবেত হয়ে সংস্থার প্রাণ পুরুষ আশীষ দাসকে শ্রদ্ধা এবং নবীনেরা গুরু প্রণাম জানিয়েছেন। প্রবীনেরা সংগঠক আশীষ দাসকে সকলে ভালবাসা জানিয়েছেন। এই জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র সাংস্কৃতিক কর্মীরা এসে ফুল মিষ্টি দিয়ে গেছিলেন।অনেক অতীতে যাঁরা নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির নানান কারণে, নকসার কর্মী হয়েও, থিয়েটার ও নকসা বিচ্ছিন্ন ছিলেন, তাঁরাও নকসা'র ভারতবর্ষে ও বিদেশে, এবং বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া, ৪৫ বছরের কীর্তি খ্যাতিতে শ্রদ্ধা সম্মান জানাতে এসেছিলেন। মাথাভাঙা থেকে নারায়ণ সাহা, মুর্শিদাবাদ থেকে দুলাল চক্রবর্ত্তী, চন্দননগর থেকে তুষার ভট্টাচার্য, অনুপম দত্ত, রীণা দত্ত, কাঁকিনাড়া থেকে রাজা দে, প্রমুখেরা সহ আরো বহু নাট্যজন ছুটে এসেছিলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে। সামনে আনা হয়েছিল স্মৃতি চারণের পরম্পরাকে। এই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে আশীষ দাসের দীর্ঘ সংগ্রাম নাট্য বোধ, ও সুষ্ঠচালনা অবদানকে স্মরণ করে, এযাবৎ কালের ঘটে যাওয়া ইতিবৃত্ত কথা, পারস্পরিক আলাপন, অভিজ্ঞতা শেয়ার, আর নাচে গানে কবিতায় নাটকে আর আড্ডা মজলিশে বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্র ভরে উঠেছিল। পান্তা ভাতে দুপুরের লাঞ্চ রাতে ছিল মাংস ভাতের ডিনার। পরিকল্পিত একটি চমৎকার ঘরোয়া সাংস্কৃতিক পরিবেশে, আশীষ দাসকে সংস্থার নবীন শিল্পীরা উপহার দিয়ে গুরু প্রণাম জানিয়েছেন। আশীষ দাসের এই হয়ে ওঠার সাথে চাক্ষুষ দর্শন, মানসিক সংযোগ আর নাট্য অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্ত বহু বিদগ্ধ প্রবীণদের বলা উক্তি ডকুমেন্টারি তথ্য চিত্র আকারে প্রদর্শিত হয়েছিল।

আশীষ দাস ঠান্ডা মাথার মানুষ। নিজের মাটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ। তাই অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থাকে কাটিয়ে, সকলকে নিয়ে, একসাথে, নিজের পথে, নিজের মতে, অর্জিত অভিজ্ঞতা গুলিকে যেভাবে চয়ন করেছেন। নিজের সৃজনশীলতা থেকে অন্যদের কল্পনাকে উসকে দিয়ে বিচিত্রিতায়, সকলকে যেভাবে শিল্পে পাগলামি করতে শিখিয়েছেন। তার তুলনা কমই আছে। এই মর্মে আশীষ দাস, গুরুত্বপূর্ণ নাট্য শিক্ষক এবং সুচারু অভিনেতা। সবচেয়ে বড় একজন সংগঠক। এদিন তিনি জানিয়েছেন, নকসায় বেশ কিছু নতুন প্রজন্মের নাট্য চালক এবং নাট্য শুভ  চিন্তকের জন্ম হয়ে গেছে। অঞ্চলের চার পাশেই তাঁর হাতে গড়া অজস্র ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে আছেন। তিনি একজন ভূমিপুত্র। এই হয়ে  ওঠাতে, এই ভূমিকেই নাটকের ভূমিকায় নিবেদিত করতে, প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকায় নির্মিত এই স্বয়ংক্রিয় নাট্য বিচিত্রা কেন্দ্র, অভিনয়ের ইন্টিমেট স্পেস সহ আবাসিক, সকলের উৎসব আয়োজনে উন্মুক্ত নাটকের নিয়মিত নাট্য তৎপরতায় নিবেদিত। আশীষ দাসের দীর্ঘ শ্রম অনুশীলন সমৃদ্ধ যন্ত্রণা থেকে উঠে আসা কিছু করে দেখাবার স্পর্ধায় তিনি অক্ষয় অমর অস্তিত্বে নকসাকে এভাবেই ভেবে বুঝে, সবুজে অবুঝে তাল গোল পাকিয়ে তিল থেকে তিলোত্তমা শিল্পে নিয়ে এসেছেন।

 এদিন সন্ধ্যায়, নকসার নিজস্ব বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্রের ব্ল্যাক বক্সে, সংস্থার অন্যতম অভিনেত্রী তিতলি চক্রবর্তীর ভাবনা, চালনা নাট্যরূপারোপে এবং অভিনয়ে, ৪০ মিনিটের একক স্পেস থিয়েটার প্রদর্শিত হয়েছিল। নাটকের নাম "বুধির ঘরে ফেরা"। বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। গল্পের ন্যারেটিভ ফিচার এবং উক্তি প্রতুক্তিকে হুবহু রাখা হয়েছিল নাটকে। অভিনেত্রী তিতলি চক্রবর্তী স্পেস জুড়ে তার সমস্ত টুকু উজাড় করে এই নাট্যায়ন একা একাই করেছেন। কখনো সাহিত্যকের কথা, কখনো জীবজন্তু, কখনো মানুষ হয়ে উঠতে চেষ্টা করেছেন। একটি জীবন একই নমুনা সাজ পোষাকে। বুধি একটি অবলা গরু। সে ঘাস খেতে খেতে নিজের আবাস থেকে দূর জনপদে ছিটকে চলে গিয়েছিল। দেখেছিল বিচিত্র নাগরিক মানুষ এবং তার নগরের বিবিধ ব্যাস্ততা, ভীড় যানবাহনের তীব্র তীক্ষ্ণ জট। অনেক ঘাটের জল খেয়ে বুধি গরু বোধিত হয়েছিল। এভাবেই সাথে আরো জন্তুর সাথে মোকাবিলা করে, বহু অচেনাকে চিনে, খিদে পিপাসা বুকে বয়ে পায়ে পায়ে অজান্তে কিভাবে যেন চলে এসেছিল নিজের গোয়ালে। মানুষের জীবনের মিলে এই বিষয় বস্তু চমৎকার। মানবিক অনুভূতির বহু তরঙ্গ ছিল এই নাটকের মধ্যে। তিতলি চক্রবর্তী এযাবৎ তাঁর নাট্য শিক্ষায় যেটুকু অভিজ্ঞান আত্মস্থ করেছেন। তার সবই তুলে ধরেছিলেন। খুব পোটেনশিয়ালস নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রে অন্যতমা অভিনেত্রী তিনি। এখানেই আবাল্য নাট্য শিক্ষিত হয়েছেন গুরু আশীষ দাসের চেষ্টা ও গড়ে তোলার অভিজ্ঞ ক্ষমতায়। শরীর এবং পরিপূর্ণ  এনার্জি দিয়ে একাই তিনি দর্শকদের পিন ড্রপ সাইলেন্স-এ রেখেছিলেন। 

এই উপস্থাপনায় উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন আশীষ দাস ও দীপান্বিতা বনিক দাস। তাকে সাজে পোষাকে ভূমিসুতা দাস চরিত্রে নিয়ে এসেছেন। নেপথ্যের আবহে সহযোগিতায় ছিলেন সায়নী চক্রবর্তী। প্রয়োজনটি বেশ কঠিন এবং বড় চ্যালেঞ্জিং। অনেক মানবিক চরিত্র, সাথে জীবজন্তু ইত্যাদিকে এক দেহের ভাষায় প্রাঞ্জল করে তোলা কঠিন কাজ। তবুও কিছু অতিরিক্ত চঞ্চলতা দূর করতে হবে। যেহেতু  অবলা প্রাণীর অসহায়ত্ব নির্বাক। নিস্তরঙ্গ শুধুই চোখ চাওয়া। সে চোখের চর্চা নাটকে আসে নি। এসেছে বাচিক আর মানুষের অস্থিরতা। তাই এই নাটক আরো নির্বাক-ধূসর হয়ে, বোবা কান্নায় চোখেমুখে চেয়ে দেখতে ও দেখাতে হবে একটি গরুর অনুভবকে। তাই গল্পের অনুভূতির মননে নাটককে আরো ঘনীভূত করা দরকার। কিছু অনিবার্য পরিচ্ছন্ন গল্প বিভাজনের আবশ্যকতাও আছে। গল্পের শব্দ গুচ্ছ ও বাক্য চলন, নাটকের চরিত্রের চলনে যুক্তিযুক্ত হলো কিনা, না হলে কি করলে সেই সংশয় দূর হবে, তা নিয়েও ভাবতে হতে পারে। গরুর সাজেশন এবং সেখান থেকে মানুষ হওয়ার মধ্যবর্তী অবগতি-পোষাক আরো প্রচ্ছন্ন হলে ভালো হয়। আবহ আরো ভাষা ময় হলে ভালো হয়।




দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...