রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, নিউটাউন : বাংলার নববর্ষকে মেঘ মুলুকে নাট্যদল বিগত দশ বছর ধরে সমারোহের সাথে বরণ করে চলেছে। নাট্যচর্চার পাশাপাশি নতুন বছরের আলোকে বাঙালির সংস্কৃতিচর্চাকেও পাথেয় করে এগিয়ে যেতে চায় তারা। এবারের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আলপনা পার্বণ। নিজেদের বর্ষবরণ কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে মেঘ মুলুকে একটি আলপনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সেখানে তারা স্থানীয় শিল্পীদেরকে এই অভিনব সুযোগ করে দিয়েছে। শিল্পীরাও তার যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। ভালবাসার তুলিতে তারা তাদের গুণপনায় রাজারহাট- নিউটাউনের জ্যোতিনগরের বি ব্লকের রাস্তাটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।অপরদিকে পাড়ার সকলের সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একটি গোটা পাড়ার মানুষ যেনো এই উৎসবে একে অপরের হাত ধরে একটি সুসংকল্পকে সুষ্ঠুভাবে রূপায়িত করেছে। সব বয়সের মানুষই সেখানে পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।সারা বছরই তারা এভাবে মেঘ মুলুকে-র পাশে থেকে আরো সাহস ও ইন্ধন জুগিয়ে চলেছে।
১৫ই এপ্রিল ২০২৬(১লা বৈশাখ ১৪৩৩) বাংলা বছরের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। বিকেলে ছোটদের আঁকা প্রতিযোগিতা খেয়াল খোলা রঙের মেলা দিয়ে এই দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিযোগিতার চেয়ে এটিকে ক্ষুদে আঁকিয়েদের মুক্তমঞ্চই বলা যেতে পারে। যেখানে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা তাদের রঙিন উৎসাহে নিজেদের কাগজগুলিতে নিজেদের মনের প্রতিফলন ফেলে চলেছে। এই ছানাদের নিয়েই মেঘ মুলুকে সারা বছর ভিন্ন স্বাদের নাটক তথা সাংস্কৃতিক উদযাপন করে চলেছে। এরপর অনুষ্ঠানের ঝুলিতে ছিল , মেঘমুলুকের মেঘ ছানাদের নাটক: গল্পে গানে সহজ পাঠ। বারুইপুর গঙ্গারিডি পাপেট থিয়েটারের পুতুল নাটক এক বৃন্তে দুটি কুসুম। নির্দেশনায়: ড:প্রদীপ সরদার। রবীন্দ্রভারতী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রযোজনায় ছিল মানিকবাবুর খবর এবং থিয়েলাইট এর প্রযোজনায়, শ্রী অতনু সরকারের নির্দেশনায় নাটক: ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ। এছাড়াও মেঘমুলুকের মেঘছানাদের সাথে সময় কাটাতে এসেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী শ্রীমতি ভাস্বতী রায়। তার কথালাপের বাতাবরণ ছোটদের সাথে সাথে সকল দর্শকদের আপ্লুত করেছে।
সব শেষে ছিল মেঘ মুলুকে-র বন্ধুজন সংবর্ধনা। যারা সারাবছর নেপথ্যে থেকে মেঘের দলের সব কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ও ভালোবেসে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগান তাদেরকে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানে মেঘ মুলুকে ভালোবাসা ও সম্বর্ধনা জানিয়ে থাকে । সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার- এর অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায় এবারের মেঘ মুলুকে বর্ষবরণ হয়ে উঠেছিল চাঁদের হাট। হৈ হৈ করে তারা যেভাবে বাংলার নববর্ষর আনন্দকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস করেছে তা প্রশংসনীয়। এভাবেই এগিয়ে চলুক মেঘ মুলুকে নাট্যদল।



