Sunday, 10 May 2026

গোবরডাঙ্গা নকসায় নাটকে কথায় গুরু প্রণাম

দুলাল চক্রবর্ত্তী , থিয়েটার মগজ পত্রিকা, গোবরডাঙ্গা : গোবরডাঙ্গা নকসা'র ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন আসর বসেছিল ১লা মে ২০২৬ তারিখে, বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্রে। সংস্থার সাথে জড়িত শিশু কিশোর কিশোরী শিল্পী কুশীলব, তাদের অভিভাবক মা বাবা, এবং গোবরডাঙ্গা অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি কর্মীরা সবমবেত হয়ে সংস্থার প্রাণ পুরুষ আশীষ দাসকে শ্রদ্ধা এবং নবীনেরা গুরু প্রণাম জানিয়েছেন। প্রবীনেরা সংগঠক আশীষ দাসকে সকলে ভালবাসা জানিয়েছেন। এই জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র সাংস্কৃতিক কর্মীরা এসে ফুল মিষ্টি দিয়ে গেছিলেন।অনেক অতীতে যাঁরা নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির নানান কারণে, নকসার কর্মী হয়েও, থিয়েটার ও নকসা বিচ্ছিন্ন ছিলেন, তাঁরাও নকসা'র ভারতবর্ষে ও বিদেশে, এবং বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া, ৪৫ বছরের কীর্তি খ্যাতিতে শ্রদ্ধা সম্মান জানাতে এসেছিলেন। মাথাভাঙা থেকে নারায়ণ সাহা, মুর্শিদাবাদ থেকে দুলাল চক্রবর্ত্তী, চন্দননগর থেকে তুষার ভট্টাচার্য, অনুপম দত্ত, রীণা দত্ত, কাঁকিনাড়া থেকে রাজা দে, প্রমুখেরা সহ আরো বহু নাট্যজন ছুটে এসেছিলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে। সামনে আনা হয়েছিল স্মৃতি চারণের পরম্পরাকে। এই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে আশীষ দাসের দীর্ঘ সংগ্রাম নাট্য বোধ, ও সুষ্ঠচালনা অবদানকে স্মরণ করে, এযাবৎ কালের ঘটে যাওয়া ইতিবৃত্ত কথা, পারস্পরিক আলাপন, অভিজ্ঞতা শেয়ার, আর নাচে গানে কবিতায় নাটকে আর আড্ডা মজলিশে বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্র ভরে উঠেছিল। পান্তা ভাতে দুপুরের লাঞ্চ রাতে ছিল মাংস ভাতের ডিনার। পরিকল্পিত একটি চমৎকার ঘরোয়া সাংস্কৃতিক পরিবেশে, আশীষ দাসকে সংস্থার নবীন শিল্পীরা উপহার দিয়ে গুরু প্রণাম জানিয়েছেন। আশীষ দাসের এই হয়ে ওঠার সাথে চাক্ষুষ দর্শন, মানসিক সংযোগ আর নাট্য অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্ত বহু বিদগ্ধ প্রবীণদের বলা উক্তি ডকুমেন্টারি তথ্য চিত্র আকারে প্রদর্শিত হয়েছিল।

আশীষ দাস ঠান্ডা মাথার মানুষ। নিজের মাটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ। তাই অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থাকে কাটিয়ে, সকলকে নিয়ে, একসাথে, নিজের পথে, নিজের মতে, অর্জিত অভিজ্ঞতা গুলিকে যেভাবে চয়ন করেছেন। নিজের সৃজনশীলতা থেকে অন্যদের কল্পনাকে উসকে দিয়ে বিচিত্রিতায়, সকলকে যেভাবে শিল্পে পাগলামি করতে শিখিয়েছেন। তার তুলনা কমই আছে। এই মর্মে আশীষ দাস, গুরুত্বপূর্ণ নাট্য শিক্ষক এবং সুচারু অভিনেতা। সবচেয়ে বড় একজন সংগঠক। এদিন তিনি জানিয়েছেন, নকসায় বেশ কিছু নতুন প্রজন্মের নাট্য চালক এবং নাট্য শুভ  চিন্তকের জন্ম হয়ে গেছে। অঞ্চলের চার পাশেই তাঁর হাতে গড়া অজস্র ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে আছেন। তিনি একজন ভূমিপুত্র। এই হয়ে  ওঠাতে, এই ভূমিকেই নাটকের ভূমিকায় নিবেদিত করতে, প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকায় নির্মিত এই স্বয়ংক্রিয় নাট্য বিচিত্রা কেন্দ্র, অভিনয়ের ইন্টিমেট স্পেস সহ আবাসিক, সকলের উৎসব আয়োজনে উন্মুক্ত নাটকের নিয়মিত নাট্য তৎপরতায় নিবেদিত। আশীষ দাসের দীর্ঘ শ্রম অনুশীলন সমৃদ্ধ যন্ত্রণা থেকে উঠে আসা কিছু করে দেখাবার স্পর্ধায় তিনি অক্ষয় অমর অস্তিত্বে নকসাকে এভাবেই ভেবে বুঝে, সবুজে অবুঝে তাল গোল পাকিয়ে তিল থেকে তিলোত্তমা শিল্পে নিয়ে এসেছেন।

 এদিন সন্ধ্যায়, নকসার নিজস্ব বিচিত্রা সংস্কৃতি কেন্দ্রের ব্ল্যাক বক্সে, সংস্থার অন্যতম অভিনেত্রী তিতলি চক্রবর্তীর ভাবনা, চালনা নাট্যরূপারোপে এবং অভিনয়ে, ৪০ মিনিটের একক স্পেস থিয়েটার প্রদর্শিত হয়েছিল। নাটকের নাম "বুধির ঘরে ফেরা"। বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। গল্পের ন্যারেটিভ ফিচার এবং উক্তি প্রতুক্তিকে হুবহু রাখা হয়েছিল নাটকে। অভিনেত্রী তিতলি চক্রবর্তী স্পেস জুড়ে তার সমস্ত টুকু উজাড় করে এই নাট্যায়ন একা একাই করেছেন। কখনো সাহিত্যকের কথা, কখনো জীবজন্তু, কখনো মানুষ হয়ে উঠতে চেষ্টা করেছেন। একটি জীবন একই নমুনা সাজ পোষাকে। বুধি একটি অবলা গরু। সে ঘাস খেতে খেতে নিজের আবাস থেকে দূর জনপদে ছিটকে চলে গিয়েছিল। দেখেছিল বিচিত্র নাগরিক মানুষ এবং তার নগরের বিবিধ ব্যাস্ততা, ভীড় যানবাহনের তীব্র তীক্ষ্ণ জট। অনেক ঘাটের জল খেয়ে বুধি গরু বোধিত হয়েছিল। এভাবেই সাথে আরো জন্তুর সাথে মোকাবিলা করে, বহু অচেনাকে চিনে, খিদে পিপাসা বুকে বয়ে পায়ে পায়ে অজান্তে কিভাবে যেন চলে এসেছিল নিজের গোয়ালে। মানুষের জীবনের মিলে এই বিষয় বস্তু চমৎকার। মানবিক অনুভূতির বহু তরঙ্গ ছিল এই নাটকের মধ্যে। তিতলি চক্রবর্তী এযাবৎ তাঁর নাট্য শিক্ষায় যেটুকু অভিজ্ঞান আত্মস্থ করেছেন। তার সবই তুলে ধরেছিলেন। খুব পোটেনশিয়ালস নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রে অন্যতমা অভিনেত্রী তিনি। এখানেই আবাল্য নাট্য শিক্ষিত হয়েছেন গুরু আশীষ দাসের চেষ্টা ও গড়ে তোলার অভিজ্ঞ ক্ষমতায়। শরীর এবং পরিপূর্ণ  এনার্জি দিয়ে একাই তিনি দর্শকদের পিন ড্রপ সাইলেন্স-এ রেখেছিলেন। 

এই উপস্থাপনায় উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন আশীষ দাস ও দীপান্বিতা বনিক দাস। তাকে সাজে পোষাকে ভূমিসুতা দাস চরিত্রে নিয়ে এসেছেন। নেপথ্যের আবহে সহযোগিতায় ছিলেন সায়নী চক্রবর্তী। প্রয়োজনটি বেশ কঠিন এবং বড় চ্যালেঞ্জিং। অনেক মানবিক চরিত্র, সাথে জীবজন্তু ইত্যাদিকে এক দেহের ভাষায় প্রাঞ্জল করে তোলা কঠিন কাজ। তবুও কিছু অতিরিক্ত চঞ্চলতা দূর করতে হবে। যেহেতু  অবলা প্রাণীর অসহায়ত্ব নির্বাক। নিস্তরঙ্গ শুধুই চোখ চাওয়া। সে চোখের চর্চা নাটকে আসে নি। এসেছে বাচিক আর মানুষের অস্থিরতা। তাই এই নাটক আরো নির্বাক-ধূসর হয়ে, বোবা কান্নায় চোখেমুখে চেয়ে দেখতে ও দেখাতে হবে একটি গরুর অনুভবকে। তাই গল্পের অনুভূতির মননে নাটককে আরো ঘনীভূত করা দরকার। কিছু অনিবার্য পরিচ্ছন্ন গল্প বিভাজনের আবশ্যকতাও আছে। গল্পের শব্দ গুচ্ছ ও বাক্য চলন, নাটকের চরিত্রের চলনে যুক্তিযুক্ত হলো কিনা, না হলে কি করলে সেই সংশয় দূর হবে, তা নিয়েও ভাবতে হতে পারে। গরুর সাজেশন এবং সেখান থেকে মানুষ হওয়ার মধ্যবর্তী অবগতি-পোষাক আরো প্রচ্ছন্ন হলে ভালো হয়। আবহ আরো ভাষা ময় হলে ভালো হয়।




দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...