Saturday, 23 May 2026

বিষাণের নাট্যমেলা ২০২৬-২৭

 

দুলাল চক্রবর্ত্তী , থিয়েটার মগজ পত্রিকা, মালদা : ১৯৭৭ সাল থেকে চলমান-চিত্রে ধারাবাহিক নাট্যমগ্নতায়, মালদা গাজোলের বিষাণ একটি নাট্য সংস্থা জেলার গর্ব হতে পেরেছে।তাই সেই মর্মেই, গত ১২ থেকে ১৪ই মে ২০২৬ পর্যন্ত, গাজোলের বিষাণ একটি নাট্য সংস্থা র পঞ্চাশ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের সূচনা করে, সংস্থার প্রথম পর্বের নাট্যমেলায় নিজস্ব পাঁচটি প্রযোজনার মঞ্চায়ন করেছিলো। বিষাণ অঙ্গনের নিজস্ব মঞ্চে, নিজেদের প্রযোজনায়, তিন দিনের এই নাট্যমেলা অনুষ্ঠিত করতে পারায় ছিল, সংস্থার এযাবৎ অর্জিত শক্তির নমুনা প্রদর্শন। শুরুর দিন, ১২ই মে বিকাল চারটায় বিশিষ্ট অভিনেতা শ্রী সঞ্জীব সরকার, শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যকার সুব্রত কাঞ্জিলাল, বিশিষ্ট নাট্যজন সন্তু সাধু খাঁ, অভি চক্রবর্তী, দুলাল চক্রবর্তী, তপন সেনগুপ্ত প্রমুখ সহ মালদা জেলার বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় নাট্যমোদী দর্শকদের সাথে নিয়ে বিষাণ সংস্থা, পায়ে পা মিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য পথ পরিক্রমা করেছিলো। এরপর এইদিন, বিকাল ৫.১৫ মিঃ এ বিষাণের নিজস্ব মঞ্চে উদ্বোধন সংগীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। উপস্থিত শ্রী সঞ্জীব সরকার সহ আগত অতিথি নাট্য বন্ধু, গাজোলের বিশিষ্ট শিল্পপতি মাননীয় শ্রী বিধান চন্দ্র, গাজোল ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মাননীয় শ্রী কাজল কুমার কুন্ডু সহ স্থানীয় অতিথিদের হাতে ৫০ টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল। এদিন স্বাগত বক্তব্যে বিষাণ এর নাট্য পরিচালক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্থার দীর্ঘ পথ চলার প্রত্যয়িত ইতিহাস ব্যক্ত করেছিলেন এবং আগামী সময়ের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছিলেন। উপস্থিত মান্য জনেরা নিজের উপলব্ধিতে বিষাণ কিভাবে প্রাসঙ্গিক, এই মর্মের দীর্ঘ হৃদয় কথায় বিষাণ সম্পর্কে তাঁদের অনুভব ব্যক্ত করেছিলেন।

এদিন ছিল সংস্থার নাট্য প্রশিক্ষণ আকাদেমির প্রশিক্ষার্থীদের নিয়ে মনোজ মিত্রের হনুমতির পালা অবলম্বনে, সংস্থার পবন পালের নির্মাণে নাটক "মন্দোদরী হরণ" অভিনয় শুরু হয়েছিল। কিন্তু  প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নাটকটি মঞ্চস্থ হতে পারে নি। তাই পরের দিন যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক উপস্থিতিতে এই নাটকের সুষ্ঠ মঞ্চায়ন হয়েছিল। সাথে ছিল, ১৩ ই মে নির্ধারিত পরিকল্পনায় দ্বিতীয় দর্শনে অভিনীত হয়েছিলো, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের রচনা ও চালনায় অণু নাটক "প্লাটফর্ম বুকের বাম দিকে"। তৃতীয় দর্শনে মঞ্চস্থ হয়েছিল  আগাথাকৃষ্টি র বিখ্যাত থ্রি ব্লাইন্ড মাইস গল্প নিয়ে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ নাটক"ফাঁদ"। নাট্যরূপ শ্রী দীপক মন্ডল। নির্মাণে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ২০২৪ সালে নির্মিত উপস্থাপনা। 


বিষাণ ২০২৬-২৭ বর্ষ নাট্য মেলার শেষ দিন, ১৪ই মে, প্রথম দর্শনে সংস্থার শিশু কিশোর বিভাগের খুদে শিল্পীরা অভিনীত করেছিলো, সম্পাদিত রবীন্দ্র নাটক "ডাকঘর"। এই নাটকের নির্মাণে সামগ্রিক ভাবনায় ছিলেন তরুণ অভিনেতা প্রলয় সরকার। শিশুরা দাপিয়ে মঞ্চের উপর নিজেদের ক্ষমতা তুলে ধরেছিলো। এদিনের দ্বিতীয় তথা প্রথম পর্বের নাট্য মেলার শেষ নাটক ছিল "লজ্জা'। নাটককার শ্রী সত্যজিৎ দত্ত। নির্মাণে ছিলেন সুশান্ত বলো। এটি ২০২৫ বর্ষের নির্মিত প্রযোজনা। একটি দুঃসাহসিক রাজনৈতিক বক্তব্যের এই নাটক সমকালীন কণ্ঠের প্রতিবাদ শানিয়ে চমকে দিতে পেরেছিলো। এখানে লক্ষণীয় বিষয়, এই ২০২৬-২৭  বর্ষে, প্রথম পর্বের নাট্যমেলায় সংস্থার বিভিন্ন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দিয়ে চারটি নাটক নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়,পরিচালনাতেও তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসা নাট্য কর্মী,পবন পাল, প্রলয় সরকার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত প্রমুখেরা নিজের নাট্য ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। এটি ৫০ বছরের বিশেষ প্রাপ্তি। এই তিন দিনের অনুষ্ঠানে দর্শক উপস্থিতিও  চোখে পড়ার মতো ছিলো। স্থানীয় নাট্য প্রেমি মানুষ উপস্থিত হয়ে, বিগত সময়ের আলোকচিত্র সহ নানা তথ্য দেখে, ইতিহাস অবগত হয়ে বিষাণ সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। নিজেরা, নিজেদের বিষাণ অঙ্গনে ৫টি প্রযোজনার ক্রমিক মঞ্চায়নে বিষাণ শিল্পীরা শক্তিশালী ভূমিকায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।



দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...