Monday, 6 April 2026

বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে আকাঙ্ক্ষার আয়োজন

                                                      চিত্র সাংবাদিক ঃ শুভময় মুখার্জি 

Raja Dey, Gobardanga : বিশ্ব নাট্য দিবসকে সামনে রেখে শহরতলির সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন ঘটল। তরুণ তুর্কি নাট্যদল গোবরডাঙ্গা আকাঙ্ক্ষা নাট্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হল একদিনের থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল, সেমিনার ও নাট্যআসরের বিশেষ আয়োজন। সংস্থার নিজস্ব উপাসনা নাট্যগৃহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বিকেল থেকেই জমে ওঠে শিল্পী, নাট্যকর্মী, নাট্যপ্রেমী ও তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিতে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং শুরু থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয় নাট্যগৃহে। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল 'স্টেজ বনাম স্ক্রিন: ডিজিটাল যুগে গ্রুপ থিয়েটারের চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক আলোচনা সভা। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব ও ডিজিটাল বিনোদনের বাড়বাড়ন্তে মঞ্চনাটকের দর্শকসংখ্যা কি কমছে? এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই আলোচনা জমে ওঠে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সময় বদলাচ্ছে, দর্শকের অভ্যাস বদলাচ্ছে, তাই থিয়েটারকেও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার, ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন প্রচার এসব এখন থিয়েটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা এও বলেন, লাইভ থিয়েটারের যে আবেগ, দর্শক ও অভিনেতার সরাসরি যোগাযোগ, মঞ্চের যে প্রাণশক্তি তা কোনও স্ক্রিন বা ডিজিটাল মাধ্যম কখনও পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অমিত কুমার সিকদার, ঠাকুরনগর থিয়েট্রিকসের কর্ণধার ও পরিচালক জগদীশ ঘরামি এবং খাঁটুরা চিত্তপটের কর্ণধার ও পরিচালক শুভাশিস রায়চৌধুরী। প্রত্যেকেই তাঁদের দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সময়ের গ্রুপ থিয়েটারের সংকট, দর্শক সমস্যা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন গোবরডাঙ্গা আকাঙ্ক্ষার অভিনেতা ও পরিচালক দীপাঙ্ক দেবনাথ, যিনি পুরো আলোচনা পর্বটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন। 


আলোচনা পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে মঞ্চস্থ হয় আকাঙ্ক্ষা শিল্পীদের প্রযোজিত নৃত্যানুষ্ঠান, পরিচালনায় সুস্মিতা সরকার ও শ্রেষ্ঠা সর্দার। নৃত্যানুষ্ঠানের পর মঞ্চস্থ হয় আকাঙ্ক্ষা নাট্য সংস্থার নবতম প্রযোজনা "পাচন পুরাণ", রচনায় নন্দ দুলাল বসু এবং সম্পাদনা ও নির্দেশনায় দীপান্ত দেবনাথ। নাটকটি দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলে এবং অভিনয়, মঞ্চভাবনা ও উপস্থাপনা প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় ঠাকুরনগর থিয়েট্রিকস প্রযোজিত মুকাভিনয় "মুক্তি”, পরিচালনায় জগদীশ ঘরামি। মুকাভিনয়ের মাধ্যমে সমাজ ও মানুষের অন্তলৌকিক মুক্তির ভাবনা অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশ্ব নাট্য দিবসে এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং শহরতলির গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলেই মনে করছেন নাট্যকর্মী ও নাট্যপ্রেমীরা। আলোচনা, নৃত্য, নাটক ও মুকাভিনয় সব মিলিয়ে দিনভর এই আয়োজন গোবরডাঙ্গার নাট্যচর্চার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে বলেই মত সাংস্কৃতিক মহলের।



দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস

রাজা দে, থিয়েটার মগজ পত্রিকা, দত্তপুকুর : গত ৬ই সেপ্টেম্বর রবিবার দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হলো "দৃষ্টি...